শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
সরকারি কেনাকাটা ও দরপত্র স্থগিত করল স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়ালটন হাই-টেকের ১৯০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন Price Sensitive Information of Beacon Pharmaceuticals PLC. অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়লো রংপুর কারমাইকেল কলেজে চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার ওপর আইসিএসবি’র সফল সেমিনার অনুষ্ঠিত চীনা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সেবা জোরদারে এনসিসি ব্যাংকের ‘চায়না ডেস্ক’ চালু শার্শায় শামুক বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিন শতাধিক পরিবার ধানমন্ডিতে অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই ও অ্যাপোলো ক্লিনিকের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সেমিনার অনুষ্ঠিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৭০তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি ইআইআইএলের ৭৯তম সভা অনুষ্ঠিত
advertisement
শেয়ারবাজার

পুঁজিবাজারে পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসই ও ডিবিএ’র জরুরি বৈঠক

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও অস্থিরতা নিরসনে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাজারে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে করণীয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ভার্চুয়ালি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিএসই ও সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তাই বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাজারকে দমন নয়, বরং একটি কমপ্লায়েন্ট, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য।

পরে ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় Investor Protection Fund (IPF) নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন IPO ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোকে ডিএসই’র অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন IPO না আসা এবং Fixed Income Securities-এর সীমিত উপস্থিতি বাজারের অন্যতম দুর্বলতা। এ পরিস্থিতিতে নতুন বন্ডের Listing Fee কমানো হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত IPO বা Direct Listing-এর আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের Listing fee-এর ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ Regulatory Affairs Department-এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না; বরং নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।

সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, CC account, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়, পুরো বাজারের ecosystem-এর সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, “বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

তিনি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসই’র কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যত কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে চায় ডিএসই।

২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স (পরিপালন) ও সার্ভেইল্যান্স (নজরদারি) সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। যেগুলো বিএসইসিতে রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে এসব ইন্সপেকশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই তা অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং লেনদেনের ধরন, মূল্য-প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা ও নির্দেশনা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ