সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
শিরোনাম
গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্বাধীন ও শক্তিশালী কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ আদালতের ‘বাংলা কিউআর’ নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো পাঠাও পে ২৬ প্রতিষ্ঠানের এলসি সংক্রান্ত অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের অবস্থান সাতক্ষীরায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক ডিএসই ও সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাই সাতক্ষীরা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভূমিসেবা কেন্দ্রের জেলা সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ
advertisement
নির্বাচিত কলাম

পুঁজিবাজারের ভাগ্য পরিবর্তন: চেয়ারম্যান বদল বনাম সংস্কার

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাগ্য কি কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তনে নিহিত? নাকি গঠনমূলক সংস্কারই একমাত্র পথ?

সাইফুল ইসলাম পিপন: বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে এমন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রবল ধারণা জন্ম নিয়েছে যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান বা শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনই বাজারের যাবতীয় সমস্যার সমাধান। এই ধারণাটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তির প্রতিফলন হলেও বাজার ও অর্থনীতির গভীরতর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে একে একটি সরলীকরণ-ভ্রান্তি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। পুঁজিবাজারের বর্তমান স্থবিরতা, আস্থার সংকট এবং ক্রমাগত সূচকের নিম্নমুখিতা কেবল একজন ব্যক্তির প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অনাচারের একটি সমন্বিত ফলাফল। নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়তো সাময়িকভাবে বাজারে একটি ইতিবাচক স্পন্দন তৈরি করতে পারে, যেমনটি অনেক সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই পরিবর্তন কেবল গুটিকয়েক সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী বা বিনিয়োগ সন্ত্রাসী-দের ভাগ্য বদল করে, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পূর্বের মতোই প্রান্তিক অবস্থানে থেকে যান।

নেতৃত্বের পরিবর্তন ও বিনিয়োগকারী মনস্তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা

পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ক্ষেত্র যেখানে তথ্যের প্রবাহ এবং নেতৃত্বের ভাবমূর্তি তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। যখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নতুন কোনো মুখ আসে, তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হয় যে নতুন নেতৃত্ব হয়তো পূর্ববর্তী অনিয়মগুলো দূর করে বাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। তবে ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই আশাবাদ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও একটি বড় অংশ মনে করেছিল যে বাজার তার নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে তার মেয়াদে ফ্লোর প্রাইসের মতো বিতর্কিত নীতি এবং দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাজারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করেছে।

বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বাজার থেকে আবর্জনা সরানোর ঘোষণা দিলেও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে নেতৃত্বের পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পজিটিভ ভাইব কত দ্রুত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় রূপান্তরিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তুলনীয়, যেখানে সরকার বদলের পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটের সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য অপরিবর্তিতই থাকে, কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কিছু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়।

কেন চেয়ারম্যান বদল বাজারের ভাগ্য পরিবর্তনে যথেষ্ট নয়?

পুঁজিবাজারের ভাগ্য কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করার পেছনে বেশ কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো মূলত বাজারের বাস্তুসংস্থান এবং দেশের অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত।

ক) সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অনুপস্থিতিঃ একটি দেশের পুঁজিবাজার সেই দেশের অর্থনীতির আয়না হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের টানাপোড়েন এবং টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশের নিচে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা অর্থনীতির কাঠামোগত চাপের ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান যেই হোন না কেন, সামষ্টিক অর্থনীতির এই চ্যালেঞ্জগুলো তিনি এককভাবে সমাধান করতে পারেন না। মুদ্রাস্ফীতি যখন ৮ শতাংশের উপরে থাকে এবং মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়, তখন পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দেখা দেওয়াটা স্বাভাবিক।   

খ) ব্যাংকিং খাতের সংকট ও এনপিএল-এর প্রভাবঃ আমাদের পুঁজিবাজারের একটি বড় অংশ ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আকাশচুম্বী, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মোট ঋণের ৩০.৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতের এই ভঙ্গুর দশা পুঁজিবাজারের সূচককে ক্রমাগত নিম্নমুখী রাখছে, কারণ তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা কমে গেছে। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের এই গভীর রোগ নিরাময় করা সম্ভব নয়, যার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সংস্কার এবং কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

গ) কারসাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতিঃ পুঁজিবাজারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা কারসাজি চক্র সক্রিয় থাকে, যারা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে লিয়াজি করে ইনসাইডার ইনফর্মেশন কালেক্ট করে এবং ব্রোকারেজ হাউসের সহায়তায় কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম নিয়ন্ত্রণ করে।  এই চক্রগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বের পরিবর্তনের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয়। বিএসইসি চেয়ারম্যানের পরিবর্তন হলেও এই অদৃশ্য শক্তিগুলো তাদের নেটওয়ার্ক বজায় রাখে, যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই তথ্যের অসমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী ভাগ্য বদলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কী কী হতে পারে?

পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে না থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু কাঠামোগত সংস্কার ও উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

ক) ভালো ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তিঃ বাজারে বর্তমানে আবর্জনা শেয়ারের আধিক্য এবং মানসম্পন্ন শেয়ারের অভাব আস্থার সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা বাজারের গভীরতা বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। সরকার ইতিমধ্যে ১০টি লাভজনক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বাজারের জন্য একটি মাইলফলক হতে পারে।  

খ) আইনি কাঠামো ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারঃ বিএসইসি ইতিমধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্সকে একীভূত করার কাজ শুরু করেছে। এই আইনি আধুনিকায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন কারণ বর্তমান আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক কারসাজিকারী পার পেয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১-এর পরিবর্তন ও যুগোপযোগীকরণ বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গ) প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা ও নজরদারিঃ কারসাজি ঠেকাতে বিএসইসি ইতিমধ্যে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে নন-এডিটেবল ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে লেনদেনের তথ্য জালিয়াতি করা কঠিন হবে। এছাড়াও ইনসাইডার ট্রেডিং বা তথ্যের গোপন ব্যবহার রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন যাতে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা যায় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

ঘ) বন্ড বাজারের উন্নয়ন ও ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা হ্রাসঃ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার মূলত ইক্যুইটি বা শেয়ারনির্ভর, যেখানে বন্ড মার্কেটের অস্তিত্ব খুবই নগণ্য। একটি স্থিতিশীল বাজারের জন্য একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট থাকা আবশ্যক। বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ডের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত করা হলে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ কমবে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ লভ্যাংশের একটি বিকল্প উৎস পাবে। 

ঙ) বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারঃ ফ্লোর প্রাইস এবং ঘনঘন নীতি পরিবর্তনের ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ২০২০ সালে মোট লেনদেনে বিদেশী অংশগ্রহণ ৩ শতাংশের বেশি থাকলেও ২০২৫ সালের এসে তা ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনতে হলে বাজারের স্বয়ংক্রিয় গতিতে  হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং মুদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

চ) বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা ও সুরক্ষা তহবিলঃ অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই গুজব বা অন্যের কথায় বিনিয়োগ করেন, যা তাদের লোকসানের অন্যতম কারণ। বিএসইসির উচিত আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সাশ্রয়ী করা। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন যাতে কোনো ব্রোকারেজ হাউস দেউলিয়া হলে বা অনিয়ম করলে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পান।

পরিশেষে বলা যায় যে, বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের রাতারাতি উন্নতি হবে- এমন ধারণা কেবল অবাস্তবই নয়, বরং বিপজ্জনক। বাজার কেবল তখনই একটি নতুন চূড়ায় উঠবে যখন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে, ব্যাংকিং খাতের ক্ষতগুলো নিরাময় হবে এবং বাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে । নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি সূচনা মাত্র হতে পারে, কিন্তু বাজারের প্রকৃত ভাগ্য বদলের জন্য প্রয়োজন সাহসী নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। যতক্ষণ পর্যন্ত বাজারের গভীরতা বাড়বে না এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাবেন না, ততক্ষণ নেতৃত্বের পরিবর্তন কেবল কিছু মানুষের ভাগ্য বদলাবে, যেখানে লক্ষ সাধারণ বিনিয়োগকারী আগের মতোই উপেক্ষিত থেকে যাবেন। বাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন একটি বৈষম্যহীন এবং স্বচ্ছ পরিবেশ, যা কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

(লেখকঃ সাইফুল ইসলাম পিপন, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ)

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ