ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনেই এবারের নির্বাচনের ফলাফলে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। জেলার প্রতিটি আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথমবার একযোগে সব আসনে নতুন মুখের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো, যা জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনেই এসেছে আমূল পরিবর্তন। জেলার প্রতিটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন নতুন মুখ।
নির্বাচিতদের কেউই এর আগে সংসদ সদস্য ছিলেন না। ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে কোনো না কোনো সাবেক বা অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের প্রভাব থাকলেও এবার ভোটাররা সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে সরকারি ফলাফল ও বিজয়ের সনদ তুলে দেন।
আসনভিত্তিক ফলাফল-
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া): আসনে স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা):আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপি মনোনীত মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর):আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসেইন ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।নিকটতম স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৯৫ ভোট।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর):আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮০ ভোট।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া):আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল):আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ৯৯ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৫১ ভোট।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ):আসনেনবিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম এলডিপির অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১৫ ভোট।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল):আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৭৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বিডিপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ হাজার ১৬৮ ভোট।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও):আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু ৭৫ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৭ হাজার ১৩ ভোট।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা):আসনেরবিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১১ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদ আলম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৬ ভোট।
ময়মনসিংহের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম জেলার সব কয়টি আসনে একযোগে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটল। অভিজ্ঞ-সাবেকদের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ১১ জন নতুন প্রতিনিধি। ভোটারদের এই রায়কে জেলার রাজনীতিতে প্রজন্ম পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।