আগামী ১০ মার্চ সকাল ১০টায় কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৪ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই সময়ে দেশের আরো ১৪টি স্থানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে তার বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্ব চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে দুই কোটি পরিবারকে মাসিক নগদ সহায়তার আওতায় আনা।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে চার মাসের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন ১৪টি উপজেলায়। সেখানে অন্তত পাঁচ সদস্যের এই পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন।’
পাইলট প্রকল্প চলাকালে ৬,৫০০ পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে, যা ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এ কর্মসূচির মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।’
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। পরিবারের একজন নারী সদস্যকে কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশব্যাপী পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড?
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা। নীতিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে ৭ শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ৭ শ্রেণির তালিকা:
১. ভূমিহীন ব্যক্তি বা পরিবার।
২. গৃহহীন মানুষ যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই।
৩. প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন পরিবার।
৪. হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যগণ।
৫. বেদে বা যাযাবর গোষ্ঠী।
৬. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার।
৭. স্বল্প জমির মালিক যাদের জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম।