প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সদ্য শপথ নেয়া মন্ত্রীরা এতে অংশ নেন এবং সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনে দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই আয়োজনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৪৯ জন শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়।
অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দু’টি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।