বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
জাতীয়

নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক: ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। “সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক। এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।”

ইভার্স ইজাবস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, “মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।”

নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক একটি বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে থাকবে।”

নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে ইভার্স ইজাবস বলেন, “ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। তারা প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। যদিও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিবেশ ও প্রত্যাশা আশাব্যঞ্জক।”

প্রাক-নির্বাচনি প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব হলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ইভার্স ইজাবস বলেন, “মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।”

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়ে  মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাঠে নামছে ইইউ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারবেশন মিশন বাংলাদেশ ২০২৬ এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে আগত মোট ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামছে ইইউ।

এই সম্পর্কিত আরো