বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
জাতীয়

কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে বাধা না থাকলেও গোপন কক্ষে নিষিদ্ধ: ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন ভোটার, প্রার্থী বা তাদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। তবে, গোপন কক্ষ বা ব্যালট স্ট্যাম্পিং রুমে মোবাইল নিষিদ্ধ থাকবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা জানান।

সচিব বলেন, ‘পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাদের মনে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল, তাই এটা আমরা সংশোধন করছি। মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটার, প্রার্থী বা তাদের এজেন্টরা ভেতরে যাবেন। সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ছবি তুলবেন, কিন্তু গোপন কক্ষ বা যেখানে স্টাম্পিং হয় সেখানে মোবাইল নিয়ে কেউ প্রবেশ করবেন না। এভাবে পরিপত্রটা আমরা সংশোধন করে দিচ্ছি যাতে এর ব্যাপারে কোন রকমের দ্বিধা না থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে এখানে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। যেমন- পোলিং এজেন্টস, পোলিং অফিসার, অ্যাসিস্টেন্ট প্রিজাইডিং অফিসার- তাদের সঙ্গে মোবাইল রাখার বিধান নেই। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য থাকেন, তাদের জন্যও একই বিধান প্রযোজ্য। নিয়মানুযায়ী তারা কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের আওতার বাইরে থাকবেন।’

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় মোবাইল ফোন সঙ্গে না রাখতে দেয়ার বিষয়ে কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বিভিন্নভাবে একাধিকবার উত্থাপিত হলে কমিশন আলোচনা সাপেক্ষে পরিপত্রের এই সুনির্দিষ্ট অংশটুকু বাতিল করেছে বলে জানান তিনি। 

এর আগে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটাররা মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না। যদি কেউ মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে যান, তবে তাকে তা কেন্দ্রের বাইরে বা নিরাপদ কোনো স্থানে রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে কোনোভাবেই ছবি তোলা, ভিডিও করা বা ফোনে কথা বলা যাবে না।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইনচার্জ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন।

নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা যাবে। এতে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে আশা করছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রের ভেতরে বা আশেপাশে অবাধে মোবাইল ফোন থাকলে গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই এই ৪০০ গজের বাধ্যবাধকতা। যদি কোনো ব্যক্তি এই আদেশ অমান্য করে ৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার করেন বা ছবি তোলেন, তবে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের অংশ হিসেবে দেশের ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এই সম্পর্কিত আরো