নিজস্ব প্রতিবেদক : আগের মতো এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী এবং সবাই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, যারা মনোনয়নের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করছেন, আইনি ভিত্তিতে তার সমাধান করা হবে। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে কমিশন।
সিইসি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ হবে এবং প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আইনি সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
ইসি জানিয়েছে, আপিল আবেদনের চতুর্থ দিন চলছে বৃহস্পতিবার। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা ইসিতে আসছেন। মনোনয়ন ফিরে পেতে কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বৈধতার বিরুদ্ধে তারা আবেদন জমা দিচ্ছেন।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আপিল করতে ইসিতে আসছেন আবেদনকারীরা। ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল চলবে। আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে, গত তিন দিনে আপিল আবেদন জমা পড়েছে ২৯৫ টি। এর মধ্যে বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং সোমবার প্রথম দিনে ৪১টি আপিল দায়ের করা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।
ইসির নোটিশ অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে মূল কাগজের ১ সেট ও ৬ সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের বেইজমেন্ট-২ এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফুল কমিশন এ শুনানি গ্রহণ করবেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি শুরু হবে। ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে দেখানো হবে। একই সঙ্গে রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
ভোট দিতে ৭ লাখ ২৮ হাজার প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ
ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে আমরা অনড়: আসিফ নজরুল