মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, যে এলাকায় তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটি সব রকম মাদকের ডিস্ট্রিবিউশন হাবে পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে অর্থ-অস্ত্র সবই রয়েছে।
তিনি জানান, যে অস্ত্রটি নিয়ে আলোচনা; তা বৈধ এবং আত্মরক্ষার্থে কিছু সময়ের জন্য হাতে নিয়েছিলেন। পুলিশ সেখানে যেতে চায় না।
ইশরাক হোসেন বলেন, যেদিন অভিযানে যাই সেদিন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। কোন সময় তারা আসবে, সেটিও তাদের জানিয়ে দিয়েছিলাম। আমার সেখানে প্রবেশ করার পর প্রায় ২৫/৩০ জন লোক ছুটাছুটি শুরু করে। আর একদল আমাদের দিকে আসতে থাকে। ওই সময় আমার নিরাপত্তার জন্য যে অস্ত্র সেটি আমার সঙ্গে ছিল, সেটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে হাতে রাখি, যাতে কোনোকিছু ঘটলে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে ন্যারিটিভ তৈরি করে মূল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, আমি মাদককে নির্মূল করতে চাই— এই জায়গা থেকে পুরো দৃষ্টি সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম। কিন্তু নানা মহলে এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত ও দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছি।
ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা করছি। আমি স্বেচ্ছায় প্রধানন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের জন্য জানিয়েছি। তিনি সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, যাও এলাকায় কাজ করো।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমি যুদ্ধটা মাদকের বিরুদ্ধে করেছি, এখানে আমার ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, জমি দখল করতে যাইনি, চাঁদাও তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছি। আমার এই যুদ্ধ চলবে মাদকের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করানো হচ্ছে। আমাদের পরবর্তী দুই প্রজন্মকে ধ্বংস করতে এই মাদক দিচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমেও আমাদের দেশে মাদক পাঠাচ্ছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ওঠে সমালোচনার ঝড়। ব্যাপক বিতর্কের মুখে রোববার (১৮ অক্টোবর) ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশনা মেনেই বিএনপি সরকারের মাত্র ৮ মাসের মাথায় সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এর আগে, রোববারের রাতে ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে, প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়।