শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী - মক্কা-মদিনা আক্রান্ত হলে কোনো আপস নয়, সৈন্য পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে ড. ইউনূসের অভিনন্দন শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, আদালতে সৎ মায়ের স্বীকারোক্তি কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার রহস্য উন্মোচন - তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশাচালক সুমন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের যত খেলা রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১১ নতুন ডিএমডি নিয়োগ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক : প্রধানমন্ত্রী শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই ডোরিন পাওয়ারের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
advertisement
জাতীয়

শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে ড. ইউনূসের অভিনন্দন

দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ নাভানেথেম 'নাভি' পিল্লাইকে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক অভিনন্দন বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার প্রতি পিল্লাইয়ের আজীবন অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, 'বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।'

তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনের প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিচারপতি পিল্লাই তাঁর জীবন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, 'বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে, জাতিসংঘে এবং আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে তাঁর কাজ প্রমাণ করেছে যে আইনের শাসন ছাড়া শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তিনি ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন এবং যাঁদের কোনো কণ্ঠস্বর নেই, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।'

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার বিচারপতি পিল্লাইয়ের অসাধারণ সাহস ও অবিচল সততার স্বীকৃতি।’

তিনি আরও বলেন, 'এটি একই সঙ্গে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচার ও শান্তি একে অপরের পরিপূরক। আমি তাঁর প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাই।'

শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান বিশ্বের এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের কথা উল্লেখ করে জানায়, বিশ্ব এখন দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ ও সংঘাত প্রত্যক্ষ করছে। এমন এক সন্ধিক্ষণে আন্তর্জাতিক আইন কেবল শান্তি ও নিরাপত্তার সহায়ক নয়, বরং এটি একটি পরম অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, 'বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আমরা আইনি কাঠামো এবং আইন ও বিচারের প্রতি বৈশ্বিক সম্মান প্রদর্শনের চেয়ে 'ক্ষমতার রাজনীতি'র দিকে একটি বিপজ্জনক রূপান্তর লক্ষ্য করছি। যখনই ন্যায়ের ওপর পেশিশক্তির জয় হয়, তখনই তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে ধ্বংস করে দেয়।'

বিজ্ঞপ্তিতে ৮৫ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান জুরিস্টের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রশংসা করে তাঁকে এই সময়ের আন্তর্জাতিক আইনি নীতির অন্যতম সেরা ও সাহসী রক্ষক হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, 'নাভি পিল্লাই এমন একজন মানুষ, যিনি অসাধারণ সাহসিকতা ও সততার সাথে একটি আরও ব্যাপক বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থার পথ দেখিয়েছেন। সর্বজনীন আইনি নীতির প্রতি তাঁর আজীবন প্রতিশ্রুতি এবং দৃঢ় নৈতিক কম্পাস তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে।'

কমিটি আরও উল্লেখ করে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার পক্ষে কাজ করা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক হিসেবে নাভি পিল্লাই দেখিয়েছেন কীভাবে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ ও সহিংসতার রূপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা প্রসেকিউশনের আওতায় আনতে অবিকল্প ভূমিকা রেখেছেন।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলেছে, ২০২৬ সালের এই নোবেল শান্তি পুরস্কারটি সরাসরি আলফ্রেড নোবেলের উইলের মূল ভাবনার সাথে মিলে যায়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে নাভি পিল্লাই জাতিগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য জোরদার করেছেন এবং আধুনিক যুগের শান্তি প্রক্রিয়াকে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপ দিয়েছেন।

১৯৬৩ সালে নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬৫ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে ১৯৮২ সালে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। নাভি পিল্লাই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান, যিনি হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরু থেকেই তিনি বর্ণবৈষম্য, বিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইও করেছেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালত, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ