রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু কাল

অক্টোবরের বেতনেই মিলবে তিন মাসের বকেয়া

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গেই তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে পে ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়ার ওপর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম সোমবার (৫ আগামী ৫ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

নতুন কাঠামোয় প্রত্যেক চাকরিজীবীর নতুন মূল বেতন কত হবে, তা পে ফিক্সেশনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্য এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ বিবেচনায় নিয়েই বকেয়ার পরিমাণ হিসাব করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন তুলতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যেভাবে সম্পন্ন হবে পে ফিক্সেশন
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে।

প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে নিচের তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে:

*জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্মতারিখ

*বর্তমান পদবি ও গ্রেড

*চাকরিতে যোগদানের তারিখ ও বর্তমান মূল বেতন

এর পাশাপাশি অতীতে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্য সঠিকভাবে মেলাতে হবে। যদি কোনো কারণে এনআইডি না থাকে, তবে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে। তথ্যে কোনো গরমিল পাওয়া গেলে সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হলেই নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।

তিন ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতনকাঠামো
গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এই মূল বেতন কার্যকর করা হবে। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে।

*প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ প্রদান করা হবে।

*দ্বিতীয় ধাপ: ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে।

*চূড়ান্ত ধাপ: ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন পাবেন চাকরিজীবীরা।

চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের এই বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতার অংশটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

 

 

 

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ