জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা পৃথক পাঁচটি মামলায় কারাবন্দি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো- ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।
আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু।
গত বছরের ৯ মে দিনগত রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন দেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর মধ্যে প্রথম চারটি মামলায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা বাদী এবং ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে এবং ভুঁইগড়, দেলপাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন বিভিন্ন বয়সী এ চারজন।
অপর মামলাটি সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। আইভীর বাসভবন 'চুনকা কুটির'-এ গত ৮ মে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পুলিশ গত ১২ মে এই মামলাটি করেছে। আইভীর সমর্থক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও এ মামলায় আসামি করা হয়।
২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে টানা জয়ী হন তিনি।