১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায়ে খালাস পেয়েছেন বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন- খান আকরাম হোসেন (৬০), শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন (৬২) ও মো. মকবুল মোল্লা (৭৯), খান আশরাফ আলী (৬৫), রুস্তম আলী মোল্লা (৭০), শেখ ইদ্রিস আলী (৬১) ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল (৬৪)।
এদের মধ্যে খান আকরাম, শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন ও মো. মকবুল মোল্লা কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আকরাম।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় খান মো. আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
রায়ের দিন সকালে সিরাজ ও আকরামকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায়ে বলা হয়, মামলার তিন আসামির মধ্যে সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি এবং আকরামের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়েছে।
প্রমাণিত পাঁচ অভিযোগে সিরাজকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা ফায়ারিং স্কোয়াডে অথবা ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ ছিল। আর একটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খান আকরাম হোসেন। আপিলে শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তাকে খালাস প্রদান করেন।
মামলার অপর আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার বিচার চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।