আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (ACT NO. XIX OF 1973) এর Section 7 অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য বর্ণিত আইনজীবীকে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে (বর্ণিত পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ) নিয়োগ দেয়া হলো। সেই সঙ্গে গত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখের স্মারকে প্রদত্ত মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের অধীনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছিল প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসব মামলার বিচার চলছে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ। এ পর্যন্ত তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ আরও দুটি মামলা। এছাড়া আগামী ৪ মার্চ রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের মামলাগুলোও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এ মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট অনেক এমপি-মন্ত্রীও বিচারকের সম্মুখীন হয়েছেন।
এদিকে, প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত অর্জন করেন তিনি।