সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
ফোবানাকে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান মসজিদ-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী-ভাতা দিচ্ছে সরকার প্রাইম ব্যাংকের উদ্যোক্তার শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ জন নোয়াখালীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের এমডি জেলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত তুলতে ৭৪ হাজার আবেদন, দাবিকৃত অর্থ ৩,৯২৫ কোটি টাকা গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যু বা ৫ বছর নিখোঁজে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর উপজেলা নির্বাচন ২০২৬ - পোস্টার-শোডাউন নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে থাকছে কঠোর শাস্তি সিরাজগঞ্জ মেডিকেলে রোগীকে ধরিয়ে দেওয়া হলো চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড
advertisement
আইন-আদালত

রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

খুনের দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই আসামিকে রংপুর মেট্রোপলিটন মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেনি।’

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য সবার নামও বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর রোববার ভোরে একই এলাকার দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়।

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: দায় স্বীকার করে দুই আসামির জবানবন্দি

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত ভোররাতে নিহত গণপতির বাসভবন সংলগ্ন দেবপতির তিনতালা বিল্ডিং দিয়ে গণপতির দুই তালা বাসার ছাদে লাফিয়ে এসে ইয়াবা সেবন করে অভিযুক্ত ওই দুই যুবক। এ সময় শিক্ষক গণপতি ছাদে এসে ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় তারা গণপতির গলায় থাকা গামছা দিয়ে পেচিয়ে হত্যা করে। তার চেঁচামেচিতে স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও গলায় কাপড় পেচিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার চেচামেচিতে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী আসলে তাকে তিন-চার মিনিট গলায় কাপড় পেচিয়ে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রশি পেচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপরে নিচে নেমে শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাথরুমে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে সেগুলো লুকিয়ে রাখে। পরে আসামিদের দেখানো মতে সেই আলামতগুলো জব্দ করা হয়।

তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে, যাতে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে হয়। এমনকি অপরাধের কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আলামত যেন না থাকে, সে জন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ