বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
রাজনৈতিক মামলা যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহার করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী ছয় দিনে রেমিট্যান্স এলো ৮ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা সরকারি চাকরিতে কর্মরত ১৪ লাখ ৬৪ হাজার, শূন্য ৫ লাখ ২১ হাজার পদ শহীদ আব্দুল্লাহর মায়ের পাশে প্রধানমন্ত্রী, ছোট ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে তামাকমুক্ত ঘোষণা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান আর নেই মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গান-এর সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে ইতিহাসে প্রথম - সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সব সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি
advertisement
আইন-আদালত

শিশু আয়াতকে কেটে ৬ টুকরো

আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড এলাকায় বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার এই টাকা ভুক্তভোগী শিশু আয়াতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় সে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর পাশাপাশি লাশ টুকরো টুকরো করে প্রমাণ লোপাট ও গুম করার অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে ইপিজেড থানায় জিডি করে পরিবার। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে নেমে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেশী আবির আলীকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আবির স্বীকার করে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল সে। কিন্তু আয়াত চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশটি লুকিয়ে রেখে পরে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে আকমল আলী ঘাটের স্লুইচ গেট সংলগ্ন সাগরে ও সংলগ্ন নালায় ভাসিয়ে দেয়। 

আবিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, আয়াতের জুতা এবং পরবর্তীতে স্লুইস গেটের একটি গর্ত থেকে খণ্ডিত মাথা ও দুই পা উদ্ধার করে পিবিআই। এছাড়া, আবিরের বাসায় পাওয়া রক্তের ছিটার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশু আয়াতের রক্তের মিল পাওয়া যায়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে আবির আলীকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যালোচনা করে আদালত আজ এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ