সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেল শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
সোমবার (২ মার্চ) ড্রোন হামলার পর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য কারখানাটি বন্ধ করা হয়।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর তীরবর্তী এই তেল শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম।
হামলার ফলে সেখানে আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি আরামকোর গণমাধ্যম বিভাগ।
এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজ, ফলে সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২.৭৯ ডলার হয়েছে, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৮.৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৭৯.৪১ ডলার হয়েছে, যা প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে, যা ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভোগা ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।