মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের রোগী সেজে সোনার চেইন চুরি, এক্সরে করে পেটে শনাক্ত ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে যমুনা ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু সম্পন্ন উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু কৃষি ও পল্লী খাতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক–ইউসিবির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৫০০ পরিবারকে সহায়তা দিল আরব আমিরাত শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, বিএনপির হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রও এসেছে: প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে এসবিএসি ব্যাংকের অংশগ্রহণ চুক্তি এনায়েতপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
advertisement
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ: ম্যাথু মিলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে ও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সবাই যেন একসঙ্গে কাজ করে, সেজন্য আমরা সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি। বাংলাদেশের জনগণের চাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া একই বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আমেরিকা-ইউরোপ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন। প্রথম প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি অবগত, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থনের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব?’

একইসঙ্গে দ্বিতীয় প্রশ্ন করে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল (মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলনে কিছু উত্তেজক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্বের খুব কম মানুষই শেখ হাসিনার শারীরিক ভাষা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বোঝেন। তিনি একই কাজ করেছিলেন ২০১৮ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা হয়েছিল। এবারও তিনি সংবাদ সম্মেলনে বসে একই ধরনের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছেন।’

জবাবে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য সরকারের কাছে যেমনটা আশা করে, বাংলাদেশ সরকারের কাছেও তেমনটা আশা করে। আর তা হচ্ছে—তারা কূটনীতিকদের সুরক্ষায় ভিয়েনা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলবে।’ আগের দিন সোমবার প্রেস ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে মুখপাত্র মিলার বলেন, ‘অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দল, ভোটার, সরকার, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমসহ সবার। বাংলাদেশের জনগণের চাওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া একই। তা হলো, বাংলাদেশে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের সংলাপে বসার ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আহ্বানের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যদি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপ করেন, তাহলে শেখ হাসিনা বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ করবেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সংলাপে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি ও তার প্রশাসন বিরোধীদের প্রতি খুবই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। গতকাল পুলিশের হাতে বিরোধী দলীয় দুই নেতা নিহত হয়েছেন। বিরোধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় দুই শীর্ষ বিরোধী নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিদিনই তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হতে পারে বলে কি মুখপাত্র মনে করেন?’

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘প্রশ্নের প্রথম অংশ নিয়ে মন্তব্য নেই।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আগে যে লক্ষ্যগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ।’ জবাবে মিলার আরও বলেন, তারা বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা সহিংসতার ঘটনাগুলো খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। তারা সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। এই সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সবাই যাতে একত্রে কাজ করেন, সেজন্য তারা সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

ব্রিফিংয়ে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপি সারা দেশে সড়ক, রেলপথ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে আরও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএনপি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের জন্য সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বলে দেশবাসী মনে করে। পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যাকারী, প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাঙচুরকারী ব্যক্তিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কি ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেবে?’

জবাবে মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ভিসা বা অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন না। তবে দেশটি বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা মনে করি, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ