বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

মৃত্যু বেড়ে ১৬২

ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসে নেপালে প্রলয়ী বন্যা: ইউএসজিএস

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালে ১৫৭ জনের বেশি এবং তিব্বতের জিরং এলাকায় ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও আট শতাধিক মানুষ নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলা ও এর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে।

ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা
নেপালের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে তীব্র কম্পনের পর এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প মনে করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এটি ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। বরং ভূমিধসের ফলে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের আকস্মিক প্রবাহ থেকে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে কাঠমান্ডুর উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে ঘটনাটি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংস্থাটি ব্যাখ্যা করে জানায়, ঘটনাটি আসলে ‘হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ’ ছিল এবং সে সময় কোনো ভূমিকম্প হয়নি। ইউএসজিএস এই ভূমিধসের শক্তিকে পরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য হিসেবে নথিভুক্ত করে।

প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেপাল-চীন রসুয়াগড়ি সীমান্ত পারাপারের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে লেন্দে নদীতে বরফ ও পাথরের ভূমিধসের কারণে ধ্বংসাবশেষবাহী এই বন্যার সৃষ্টি হয়। লেন্দে হলো ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা, যা চীন থেকে নেপালে প্রবাহিত হয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রম ও নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকা
দুর্যোগের পর রাসুয়া ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জোরেশোরে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৬২টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পর অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না, যার মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যটন বোর্ড।

কাদামাটির নিচে চাপা পড়া জীবিত মানুষ ও মরদেহ খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীরা দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলের পরিস্থিতি
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের দিকে জিরং এলাকায় তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের তিব্বত অংশে ধারণ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, পাথর, কাদা ও পানির স্রোতে ভবন ও যানবাহন ধ্বংস হওয়ার আগে বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।

স্বজনদের আকুতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
নুয়াকোট ও ধাদিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে তথ্য জানতে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বাইরে ভিড় করেছেন। ওই কেন্দ্র থেকেই হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে ব্যারাকের গেটের বাইরে পুলিশ মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য লিপিবদ্ধ করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন পুরু কাদা ও ভূমিধসের নিচে তলিয়ে গেছে বা চাপা পড়েছে। দিনভর ওই এলাকায় জীবিতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এবং উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ