ঝিনাইদহের এক হোমিও চিকিৎসকের অবদান ও সাফল্যের স্বীকৃতি একটি আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালে স্থান পাওয়া মোট ৭টির মধ্যে চিকিৎসক নজরুল ইসলামের চিকিৎসাধীন ৫টি কেস হিস্ট্রি প্রকাশিত হয়েছে। এই জার্নাল নিয়ে উপমহাদেশ ছাপিয়ে বিশ্বব্যপী সাড়া পড়ে গেছে। বইটি সম্পাদনা করেছেন ভারতের চিকিৎসক ডাঃ শ্যামল কুমার দাস।“এ নিউজ ভয়েজ ইউথ রিয়েল হোমিওপ্যাথি” জার্নাালে প্রকাশিত কেস হিস্ট্রিগুলোতে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়, উপসর্গ বিশ্লেষণ এবং যথাযথ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব কেসে রোগীদের শারীরিক ও মানসিক উপসর্গের সমন্বিত মূল্যায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে চিকিৎসা পদ্ধতির ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জার্নালে হোমিও চিকিৎসক নজরুল ইসলামের পেটের অ্যাডেনোকার্সিনোমা, সিএ স্টোমাক, লাং ক্যান্সার, বিপজ্জনক রেটিনোব্লাস্টোমার ও স্ক্যাল্প ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ নিরাময়ে সুক্ষ ডায়াগোনিসিস ও ওষুধ প্রয়োগের বিষয়টি (কেস হিষ্ট্রি) স্থান পেয়েছে। ডাঃ নজরুল ইসলামের হোমিও চিকিৎসায় এমন শত শত রোগী নিরাময় হচ্ছেন।
বইটি সম্পর্কে আমেরিকার ওকলাহোম কলেজের কার্ডিওলোজিষ্ট প্রফেসর ডাঃ আচলা সিংহল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেদিনীপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্গানন অফ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ ডঃ প্রবীর দাস, এম.ডি (হোম), নয়াদিল্লির কেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ এস. এন. জানা ও ভারতের সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি ডঃ পদ্মালয় রথসহ দেশি বিদেশী একাধি বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক ভুয়সি প্রসংশা করেছেন।
হোমিও চিকিৎসক নজরুল ইসলাম ১৯৭০ সালে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার সতব্রিজ রামনগর গ্রামের একটি কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম গোলাম রব্বানী। ১৮ বছর তিনি জার্মানি ও ইতালিতে অবস্থান করে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউরোপে অবস্থানকালে তিনি আধুনিক গবেষণাভিত্তিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি আয়ত্ত করেন এবং বিভিন্ন জটিল রোগের সফল চিকিৎসা পরিচালনা করেন।তিনি স্থায়ীভাবে কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করলেও বর্তমানে প্রতি সোমবার মাতৃভমির টানে হরিণাকুণ্ড শহরের হলবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘সাদিয়া হোমিও হল’ নামে তার নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া শহরের শঙ্খনীল টাওয়ারেও তার স্থায়ী চেম্বার রয়েছে।
হরিণাকুন্ডুর সালেহা খাতুন কলেজের শিক্ষক মাহবুব মোর্শেদ শাহিন জানান, চিকিৎসক নজরুল ইসলামের এই গবেষণাভিত্তিক সাফল্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি নতুন করে আস্থা সৃষ্টি করবে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের বিকল্প চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হোমিও চিকিৎসক নজরুল ইসলামের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ও যবিপ্রবির ভিসি ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, “উনি বেশ কিছু জটিল রোগ বিশেষ করে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে শুনেছি। আসলে ৭টি কেস হিষ্ট্রি জেনারালাইজড করার সুযোগ কম। এ ধরণের উপসর্গ নিয়ে আসা আরো অনেক রোগীকে ব্রডস্কেলে তথ্য সংগ্রহ করে চিকিৎসা দিলে গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে। ইনডিভিজুয়াল কেসগুলো সাইনটিফিক এভিডেন্স হিসেবে গ্রহন করা দুরুহ ব্যাপার বলে তিনি মন্তব্য করেন।