শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
মুক্তাগাছায় শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব‍্যাটালিয়ন বিল পাশ সরকারি দপ্তরে অনলাইন হাজিরা - ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দিয়ে প্রশাসনের সংস্কার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী ফার্স্ট ফাইন্যান্সের এজিএমের তারিখ পরিবর্তন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ ব্যাংক - অর্জন করল 'মায়া ডিক্লারেশন কমিটমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬' বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে ‘এমলিনো ডায়াবিট রান’ এর নিবন্ধন শুরু ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্ট যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৬৮৪ শিক্ষার্থীর পুনঃনিরীক্ষণের ফল পরিবর্তন ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনিয়ম–জালিয়াতির অভিযোগ: - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
advertisement
স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই মূল হাতিয়ার: চিকিৎসকদের পরামর্শ

ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশাবাহিত এই রোগ থেকে সুরক্ষার একমাত্র চাবিকাঠি হলো সচেতনতা। কারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সুনির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা কার্যকর ওষুধ নেই। আমাদের চারপাশেই মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, যা প্রতিরোধে প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পরিচ্ছন্নতা।

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এডিস মশার উৎপত্তিস্থল হলো ঘরবাড়ি, ছাদ ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি। তাই বাড়ির আঙিনা সবসময় পরিষ্কার রাখা এবং আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্র ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া জরুরি।

ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন—ফুলদানি, ড্রাম, বালতি বা এসি ও ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানিতে যেন কোনোভাবেই পাঁচদিনের বেশি পানি না জমে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এডিস মশার বিস্তার রোধে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।

চলতি বছর ও গত বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি
সরকারি হিসাব অনুযায়ী:

চলতি বছর (২৮ জুলাই পর্যন্ত): ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪,১৫৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৭,০৯ জন।

গত বছর (২০২৫): ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১,০২,৮৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু হাসপাতালের চারদেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল ও স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগীকে দ্রুত শনাক্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিকে কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে না ভেবে, বৃষ্টির পরপরই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তবেই ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুতে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি ঢেলে ও শরীর মুছে জ্বর কমাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের তীব্রতা বুঝে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর প্যারাসিটামল সেবন করাতে হবে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো শরীরে পর্যাপ্ত তরল পদার্থের জোগান দেওয়া। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও শরবত বেশি পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

ডা. হাসান হাফিজুর রহমান আরও বলেন, এডিস মশা যেহেতু জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে, তাই ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ