বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনাম
কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত আবারও আরসিএস সনদ অর্জন করল এপেক্স ফুটওয়্যার চিত্রনায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ সুন্দরবনে জলদস্যু জোনাব বাহিনীর ৩ সদস্য আটক ; অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার পটুয়াখালীতে সেতুতে দৃশ্যমান ত্রুটি, অ্যাপ্রোচে পুরোনো ইটের খোয়া ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে ডিবিএ’র বৈঠক অনুষ্ঠিত সরকারি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ শুরু হবে: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ  নিয়ে এলো “অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” ও মোবাইল অ্যাপ “পিট্রেড”
advertisement
বিনোদন

চিত্রনায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, "হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করেছিলাম। আদালত সেটি মঞ্জুর করেছেন। দাপ্তরিক কিছু প্রক্রিয়া শেষ করেই আমরা মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করব।"

এর আগে, চলতি বছরের ২০ মে আদালতে এই আবেদনটি করেছিলেন সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ।

এজাহারের বিবরণ ও ঘটনার প্রেক্ষাপট:
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন। এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদী মো. আলমগীর, তার বোন নীলা চৌধুরী, ভগ্নিপতি মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের 'ইস্কাটন প্লাজা'র ১১/বি নম্বর বাসায় সালমান শাহর সাথে দেখা করতে যান।

সে সময় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদের জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। এরপর তারা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে আসার পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোনে জানানো হয় যে সালমানের কিছু একটা হয়েছে, যেন তারা দ্রুত আসেন। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ইস্কাটন প্লাজার বাসায় গিয়ে দেখেন, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের উপরে নিথর ও অবশ অবস্থায় পড়ে আছেন। সে সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমান শাহর মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রথম দফা ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা:
সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে আসছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন, যেখানে রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর পর থেকে সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর বোনের পক্ষ হয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে, গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় (পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও পারস্পরিক সহযোগিতা) অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন- সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, চলচ্চিত্র অভিনেতা (খলনায়ক) ডন, ডেবিট, জাভেদ. ফারুক. মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকলে, তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে তারা আইনি দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।

 আদালতের নির্দেশে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  ছবি: সংগৃহীত

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ