শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
সিআইডি পরিচয়ে নারী অপহরণের চেষ্টা, সাবেক সেনা-নৌ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের ফাঁসি, দুজন খালাস এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করতে পারবেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও ৯ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী হাতিয়ায় ৭৬০ বস্তা সারসহ পাঁচ পাচারকারী আটক বেনাপোলে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসার সহকারী নিহত, শিক্ষকসহ আহত ২ ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা বিএসইসি চেয়ারম্যানের সাথে আইসিএসবির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ সিরাজগঞ্জে তরিকুল হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন
advertisement
সম্পাদকীয়

বাংলা বর্ষ বয়ে আনুক সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি

প্রবাহমান কালের গর্ভে বিলীন হলো আরো একটি বছর। বিদায় নিল বাংলা ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। নতুনের বারতা নিয়ে শুরু হল ১৪২৪। প্রকৃতির নিয়মে বয়ে যাওয়া সময়ের সঞ্চিতের উপর আশা জাগানিয়া হয়ে আসে আগামী। অতীতের গ্লানি, না পাওয়ার বেদনা, অতৃপ্তির তিক্ততা ভুলে স্বপ্নীল আগামী বির্নিমাণের ব্রত নিয়ে বরণ করা হয় নববর্ষ।

আবহমান কাল থেকে বাঙালী পালন করে আসছে বাংলা নববর্ষ। গ্রামকেন্দ্রিক বৈশাখী উৎসব আজ রাজধানী ঢাকাসহ সকল জেলা শহর তথা সারাদেশের মানুষের কাছে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। সংস্কৃতিমনা জাতির কাছে এক অনাবিল আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে ফিরে আসে বার বার। এই একটি মাত্র দিনে সকল দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বৈষম্য ভুলে সবাই অভিন্ন এক অনাবিল আনন্দের ফল্গুধারায় নিজেদের নিমজ্জিত রাখেন।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বসবে বৈশাখি মেলা। গ্রামের মেলায় পুতুল নাচ, নাগরদোলা, বাইয়োস্কপসহ থাকে নানা আনন্দ আয়োজন। মেলায় পসরা সাজিয়ে বসেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের পণ্য নিয়ে। বাড়ি বাড়ি চলে নানা প্রস্তুতি, আয়োজন। গ্রামে গ্রামে বসে বৈশাখি মেলা, ব্যবসায়ীরা খুলে বসে কাঙ্খিত হালখাতা।

রাজধানী ঢাকার রমনা বটমুলে হয় বর্ষবরণের প্রধান আয়োজন। ছায়ানটের আয়োজনে সূর্য্যােদয়ের আগ মূহুর্তে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ এর মাধ্যমে বরণ করা হয় বাংলা বর্ষকে। এরপর থাকে মঙ্গল শোভাযাত্রার আকর্ষণ। ইউনেস্কো স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। এছাড়াও থাকবে দিনব্যাপী নানা আয়োজন। শহর ও গ্রামের সকল বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর থাকবে সকল মেলা প্রাঙ্গন।

গত বছরটি ছিল জঙ্গি উত্থান ও দমনের বছর। ধর্মের নামে উগ্রপন্থীরা দেশজুড়ে যেমন তান্ডব চালিয়েছে, তেমনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল দমনে। উগ্রবাদীরা এই উৎসবকে ধর্মবিরোধী আখ্যা দিয়ে অতীতে বোমা হামলার মত জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়েছে। এবারে চট্টগ্রামে বর্ষবরণের আল্পনা দুস্কৃতকারীরা পোড়া মবিল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার কথা বলা হলেও অতীতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত ঘটনা বন্ধ করা যায়নি। শ্লীলতাহানীর মত ঘটনাও ঘটেছে।

তারপরও সবার প্রত্যাশা সকল প্রকার শঙ্কা, জড়া, জীর্ণতা দুর হয়ে যাক, বাংলা বর্ষ বয়ে আনুক সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ