সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার নেওয়ার সুযোগ পারিবারিক শান্তির জন্য রাসুল (সাঃ) এর কিছু পরামর্শ ফোবানাকে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান মসজিদ-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী-ভাতা দিচ্ছে সরকার প্রাইম ব্যাংকের উদ্যোক্তার শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ জন নোয়াখালীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের এমডি জেলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত তুলতে ৭৪ হাজার আবেদন, দাবিকৃত অর্থ ৩,৯২৫ কোটি টাকা গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যু বা ৫ বছর নিখোঁজে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
advertisement
সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি; বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে নেপিড-তে যে দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটি এ সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বাংলাদেশের কতটা লাভ হয়েছে সে প্রশ্ন উঠছে বেশ জোরেসোরে। বিস্তারিত কী আছে ঐ দলিলে সেটি কোন পক্ষই প্রকাশ করেনি। তবে দুই দেশ আলাদা-আলাদাভাবে দুটি বিবৃতি দিয়েছে।

এসব বিবৃতি পর্যালোচনার মাধ্যমে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের চাওয়ার অনেক কিছুই পূরণ হয়নি। বিশেষ করে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি ছিল সেটিকে ভিত্তি করে কিছু হোক সেটি বাংলাদেশ চায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত দোসরা অক্টোবর বলা হয়েছে এটা অবাস্তব। এখন যদি মিয়ানমার মনে করে যে ৯২ সালের চুক্তির ভিত্তি চুক্তি হচ্ছে তাহলে তো বাংলাদেশের কথা গৃহীত হলো না। এ কারণে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আশা জাগাতে পারছে না।

বাংলাদেশ চেয়েছিল চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া কবে নাগাদ শেষ হবে সেটির উল্লেখ থাকুক। কিন্তু সেটি হয়নি। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণও চেয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিও হয়নি।

রোহিঙ্গাদের সবাইকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। নতুন স্বাক্ষরিত দলিল অনুযায়ী সেটা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ, মিয়ানমার নিজেই ৯২ সালের চুক্তি মানে নি। তারা মানে নি বলেই তো ২২ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো যায়নি। আগেই যেখানে এ চুক্তির সফলতা পাওয়া যায়নি, এখন সেটির ভিত্তিতে কতটা সফলতা পাওয়া যাবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নতুন স্বাক্ষরিত দলিলকে উভয় পক্ষের জন্য বিজয় বলে বর্ণনা করছে মিয়ানমার।

মিয়ানমার বলছে, দলিল স্বাক্ষরিত হলেও মাঠের বাস্তবতা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার জন্য প্রস্তুত নয়। রোহিঙ্গারা যেসব গ্রামে বসবাস করত সেগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, যারা ফেরত আসবে তারা কি নিজেদের গ্রামে ফিরে যাবে নাকি অন্য কোথাও ক্যাম্পে তাদের রাখা হবে।

মিয়ানমার সরকার বলছে, সেসব গ্রামগুলোতে কারা বসবাস করতো সে সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ তাদের কাছে আছে। গ্রামে যারা বসবাস করতো তাদের ছবি এবং তালিকা গ্রামের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠাগুলোর কাছে রয়েছে। 

বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার সময় বাড়িঘরে আগুন দিলে অনেকের সহায় সম্বলের পাশাপাশি কাগজপত্রও পুড়ে গেছে। 

অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে মিয়ানমার এ সংক্রান্ত একটি দলিলে স্বাক্ষর করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাতে চায় যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তারা আগ্রহী। 

যথেষ্ট ছাড় দিয়ে এ ধরনের দলিলে এখনই স্বাক্ষর করার প্রয়োজন ছিল কিনা সেটি ভেবে দেখার অবকাশ আছে বলে অনেকে মনে করেন।

তবে এ দলিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অন্তত একটি কাজ হয়েছে। সেটি হচ্ছে, রোহিঙ্গা ফেরত নেবার প্রক্রিয়া কাগজপত্রে চালু করা। সেটি ইতিবাচক। কিন্তু এ কাজ যে বেশ কঠিন হবে সেটি ইঙ্গিত এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ