দীর্ঘমেয়াদে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এড়াতে রবিবার (৮ মার্চ) থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর পরীবাগ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির কথা জানিয়েছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের মধ্যে যে সংশয়টি তৈরি হয়েছে, আমরা সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছি না। কারণ একটি যুদ্ধাবস্থার কারণে সবার মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ মজুত রয়েছে।
এ সময় তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে বলেন, গত কয়েকদিনে আমরা কয়েকগুণ বেশি তেল সাপ্লাই দিয়েছি। ক্রেতারা স্বীকার করেছেন, তারা বেশি করে তেল নিচ্ছেন। এই আতঙ্ক দূর করতে হবে। সবাইকে বলতে চাই, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকার যথেষ্ট সচেষ্ট আছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। ফলে এটি একটা চাপ তৈরি করছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমন্বয়ে যেতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো দাম যেন না বাড়ে। তবে একান্তই না পারলে তখন জনগণের সঙ্গে আমরা তা শেয়ার করবো। পাশাপাশি আমরা দেশবাসীর সমর্থন কামনা করছি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় এবং অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে।
ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল নেওয়ার সুযোগ থাকবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নিতে পারবে।
এ ছাড়া পিকআপ বা লোকাল বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক বরাদ্দ থাকবে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতির কারণে মাঝে মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিলম্ব বা বিঘ্ন ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেই চাহিদা পূরণে অনেক ডিলার আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলেও জানায় বিপিসি।