মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
অর্থ-বাণিজ্য

এলপি গ্যাসের ওপর ভ্যাট কমাল সরকার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি রাখতে সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ওপর সামগ্রিক ভ্যাট কমিয়েছে।
 
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
 
এতে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) পরিশোধ করতে হত।
 
শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজিকে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে জনস্বার্থে কর কাঠামো যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
 
আরও বলা হয়, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করে।
 
নতুন ব্যবস্থায়, যা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এলপিজির আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
 
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর আর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না।
 
অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে এখন কেবল আমদানি পর্যায়েই একবার কর আদায় করা হবে।
 
এনবিআর জানায়, এসআরও কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের কাঠামোর তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত এলপিজি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে রান্না ও দৈনন্দিন কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল মধ্য ও নিম্নআয়ের ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সহায়ক হবে।
 
এ পদক্ষেপ শিল্পখাতের ব্যবহারকারীদেরও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ এতে উৎপাদন ব্যয়জনিত চাপ কমবে এবং সামগ্রিক বাজার দক্ষতা বাড়বে।
 
এনবিআর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে বৃহত্তর জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এটি চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। 

এই সম্পর্কিত আরো