সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
অর্থ-বাণিজ্য

নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ মুদ্রানীতিতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে নীতি সুদের হার। অর্থাৎ নীতি সুদ হার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এটি ঘোষণা করেন ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। 

তিনি জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সব শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন করে ডলার কেনার কথা জানিয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। গত এক বছরে ডলার কেনা হলেও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হয়নি।

মুদ্রানীতি ঘোষণায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে ব্যাংকটি। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে— এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে করুক— এমন আশাবাদ জানিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, সে জন্য  স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি কমানো হয়েছে। আগামীতে আরও কমানো হবে।

বেসরকারিতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে।

ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ছয় দশমিক ১০ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি আট শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আট দশমিক ৫০ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্যর ঠিক করা হয়েছে। একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি আট দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।

অন্যদিকে নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) আট শতাংশ থেকে নামিয়ে সাত দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়।

এই সম্পর্কিত আরো