শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান: জাতিসংঘে বাংলাদেশ গফরগাঁওয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ালটনের পিসিবিএ রপ্তানি উদ্বোধন করলেন আইসিটিমন্ত্রী সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা লন্ডনে এক পরিবারের ৪৩ সদস্যের বসবাস, এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-ছেলের মৃত্যু বেনাপোল বন্দরে পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকি - আরও দুই মামলায় ২৪ জন আসামি : এক সপ্তাহেও গ্রেফতার নেই যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ শুরু যাত্রী ছাউনিতে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান প্রসব ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক : বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই অবস্থান তৃতীয়। এই অবস্থান গত ১০ বছর ধরে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটিইএক্সএ) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি করে এমন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে ভিয়েতনাম এবং প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন।

তবে ২০১৪-২৩ সাল পর্যন্ত (১০ বছর) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির এই পরিসংখ্যান বলছে, চীন প্রথম অবস্থানে থাকলেও এক দশকে তাদের পোশাক শিল্পের রফতানি কমেছে প্রায় অর্ধেক। আর সে জায়গায় ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ তাদের অবস্থান তৈরি করেছে।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে প্রায় ৫০.৭৯ শতাংশ। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ছিল ৪.৮৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২২ সালে এই রফতানি উন্নীত হয় ৯.৭৩ বিলিয়ন ডলারে।

তবে ২০২৩ সালে আকস্মিকভাবে এই ধারাবাহিকতার পতন ঘটে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে ৭.২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছিল ২২.০৪ শতাংশ, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ওপর।

প্রথম অবস্থানে থাকা চীনের ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি ছিল ২৯.৭৯ বিলিয়ন ডলারের। সেখানে ২০২৩ সালে এই রফতানি কমে ১৬.৩২ বিলিয়ন ডলারে আসে। অর্থাৎ এক দশকের মধ্যে রফতানি কমেছে প্রায় ৪৫.২৪ বিলিয়ন ডলার।

আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি ছিল ৯.২৭ বিলিয়ন ডলারের। সেখানে ২০২৩ সালে এই রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.১৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের রফতানি বেড়েছে ৫২.৯৬ শতাংশ। একইসঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোরও রফতানি বেড়েছে।

ওটিইএক্স’র প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পোশাক রফতানি ছিল ৩.৪০ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬৯ বিলিয়ন ডলারে। আর ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের পোশাক রফতানি ছিল ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.০২ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ার পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩৩.৯৭ শতাংশ। ২০১৪ সালে যেখানে দেশটির রফতানি ছিল ২.৪৮ বিলিয়ন ডলারের, সেখানে ২০২৩ সালে উন্নীত হয় ৩.৩২ বিলিয়ন ডলারে।

বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকে চীনের পাশাপাশি হ্রাস পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, হন্ডুরাস ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রফতানিও। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি ১৩.৩১ শতাংশ, মেক্সিকোর ২৪.৬৬ শতাংশ, হন্ডুরাসের ৬.০৮ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়ার রফতানি হ্রাস পেয়েছে ১৭.৯৯ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত এক দশকে বিশ্ব বাজারে পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এ সময়ে বাংলাদেশ তার সাশ্রয়ী উৎপাদন ক্ষমতা, উচ্চমানসম্পন্ন পোশাক এবং দক্ষ শ্রমশক্তির মাধ্যমে ভারতের মতো দেশকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ