মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে গভর্নরের কঠোর নির্দেশনা চলতি অর্থবছরেই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী যশোরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মিলবে হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, সিসিইউ চালুতে ৩৩ পদ অনুমোদন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের বুধবার বন্ধ থাকবে বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা - শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনছে টিসিবি শার্শার উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে এখন প্রবাহমান
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি

সব বাধা পেরিয়েও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখল বাংলাদেশ

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিং জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে গত বছরটি দেশের শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস নিয়ে এসেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বশেষ প্রতিবেদন।

ডব্লিউটিওর ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মোট ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় এই আয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। এর ফলে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে।

ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির শীর্ষ ৫টি দেশের অবস্থান নিচে রয়েছে:

প্রথম: চীন

দ্বিতীয়: বাংলাদেশ

তৃতীয়: ভিয়েতনাম

চতুর্থ: ভারত

পঞ্চম: তুরস্ক

প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানের ব্যবধান নিয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, চীনের বাজার অংশীদারিত্ব এতটাই বিশাল যে অন্য দেশগুলো সেই তুলনায় এগোতে পারেনি। যেখানে চীনের রপ্তানি ১৫৫ থেকে ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানের ব্যবধান এখনো বেশ বড়।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশ হলেও ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতের তীব্র প্রতিযোগিতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, "ভিয়েতনাম খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী। কম্বোডিয়াও ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। তাই বর্তমান দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে হলে উৎপাদনে অটোমেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়াতে হবে।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তৈরি পোশাক খাতের একটি বড় অংশের কাঁচামাল ও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল। মূলত শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনার দক্ষতাই দুই দেশের মূল পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ক্ষেত্রগুলোতে মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ