বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি : আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফল জালিয়াতির মামলায় পুলিশের চার্জশিটে বড় গরমিল ঢাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের আরও ২টি এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এসবিএসি ব্যাংকে বাংলা কিউআর উদ্বোধনে র‌্যালি দেশে সারের সংকট নেই, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত আছে: তথ্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ জরিমানা ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র নবায়নের শেষ সময় ২৯ অক্টোবর
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেশের ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।

বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বীমা (ডিপোজিট প্রোটেকশন) ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে। এটি ব্যাংক পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি ডিপোজিট প্রোটেকশন ফান্ডের মূলধন বৃদ্ধি, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান নাজুক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, "বাংলাদেশের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। কিন্তু দেশের আর্থিক খাতের মোট সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংকিং খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা, আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতজুড়ে তথ্য ও বিশ্লেষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করা যায়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, তথ্যভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর তদারকি কার্যক্রম এবং আর্থিক খাতের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, "আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।"

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ