বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম
সারাদেশ

অবৈধ গাইড বাণিজ্য নিয়ে তুলকালাম, অর্ধকোটিতে রফা ব্যাংকে জমা ২৪ লাখ!

উপজেলা জুড়ে স্কুলগুলোতে অবৈধ গাইড বই চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষক সমিতির দুই নেতা পঞ্জেরী বই কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে ২৪ লাখ টাকা। বাকী টাকা দুই শিক্ষক নেতা পকেটস্থ করেছেন। গাইড নিয়ে অবৈধ এই কারবার চলছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়।
 
অভিযোগ উঠেছে, কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিব উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন কোম্পানীর অবৈধ গাইড চালানোর কথা বলে অর্ধকোটি টাকা চুক্তি করেন। কোম্পানী সমিতির রূপালী ব্যাংকের একাউন্টে গত ৯  ফেব্রয়ারি ২৪ লাখ টাকা জমা দিলেও বাকী টাকা সমিতি আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিবের কাছে নগদ প্রদান করে।  বিষয়টি জানাজানি ও সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ফাঁস হলে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ৪২ দিন পার হলেও কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম তদন্ত কমিটি জমা দেননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা ও সময় ক্ষেপন করছেন বলেও অভিযোগ।
 
কালীগঞ্জের অভিভাবক সেলিম হোসেন অভিযোগ করেন, তার ছেলে মেয়েকে শিক্ষকরা গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এতো টাকা দিয়ে পাঞ্জেরী গাইড কিনতে পারছেন না। উপজেলার প্রায় সব স্কুলের শিক্ষকেরাও গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন।
 
এদিকে গাইড বই চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কালিগঞ্জ শিক্ষক সমিতি তাদের রুপালী ব্যাংকের ৮৪৭ নং একাউন্টে গত ৯ ফেব্রয়ারী ২৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। বিনিময়ে উপজেলার ৫২টি হাই স্কুলের ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে বাধ্য করবেন অবৈধ গাইড কিনতে।টাকা নেওয়ার বিষয়টি কালিগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সদস্য সচিব আহসান হাবীব, জানান, তিনি এ বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না। 
 
অন্যদিকে সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগাগ করার চেষ্টা তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্নকার জানান, ‘শিক্ষকদের টাকা বা উপঢৌকন দেওয়ার ব্যাপারটা এজেন্ট ও কোম্পানি সরাসরি করে থাকে। মার্কেটিংয়ের জন্য উপঢৌকন এখন বৈধ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 
 
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকদের সম্মানীর বিনিময়ে গাইড কেনার পরামর্শ ও অর্থ দেওয়া বেআইনী। শিক্ষকরা এটা করতে পারেন না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। গাইড কোম্পানীর কাছ থেকে টাকা লেনদেনের বিষষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বৃস্পতিবার দুপুরে জানান, তদন্ত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
 
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বৃহস্পতিবার জানান, টাকার বিনিময়ে গাইড বই শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়, এটা অবৈধ। তিনি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া হুসিয়ারী এবং বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দেন।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

এই সম্পর্কিত আরো