ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক মানিক মিয়া হত্যা এবং পৃথক দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ অটোরিক্সা ছিনতাই চক্রের মূল হোতাসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মুক্তাগাছা থানাধীন খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ভিটিবাড়ী এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত অটোরিক্সা চালক মানিক মিয়া (৪১)-কে ছুরিকাঘাত করে অটোরিক্সাসহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আনোয়ার হোসাইন (আয়নাল) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২০, তারিখ: ২৮/০৩/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে একই এলাকায় আরেকটি অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এতে মো. জাহিদ (১৯) নামের এক চালককে মারধর করে হাত-পা বেঁধে অটোরিক্সা ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-২, তারিখ: ০১/০৪/২০২৬, ধারা-৩৯৪ পেনাল কোড)। দুটি ঘটনার তদন্তে নেমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধের ধরনে মিল খুঁজে পায় পুলিশ। পরে দস্যুতা মামলায় জড়িত আঃ রাহিম (১৯)-কে গ্রেফতার করা হলে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা রাশিদুল (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪২) ও রেজাউল করিম রেজা (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অটোরিক্সা ছিনতাই করে আসছিল। তারা কিশোর ও তরুণদের দিয়ে ছিনতাই করিয়ে নিজেদের গ্যারেজে অটোরিক্সার রং ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে বিক্রি করত। পরবর্তীতে সুজন মিয়া (২০) নামে আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি মানিক মিয়া হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের সময় বাঁধা দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে মানিক মিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের মধ্যে দু’জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধি করবে।