ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় লাবীব (৩) নামে নিজের এক শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগের বাবা ও সৎমা আটক করেছে পুলিশ। সেই সাথে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে গফরগাঁও উপজেলা থেকে শিশুটির বাবা সোহাগ মিয়া ও প্রথম স্ত্রী জাকিয়া আক্তারকে (২৮) আটক করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় ত্রিশালের হরিরামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকা থেকে লাবীবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে তাঁর বাবাই হত্যা করেছে।
অভিযুক্ত সোহাগ মিয়ার বাড়ি রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকায়। শিশুর মা লামিয়া তাঁর তৃতীয় স্ত্রী। লামিয়া ভালুকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। ছেলেকে নিয়ে ভাটিপাড়াতেই স্বামীর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বাপের বাড়িতে থাকতেন তিনি।
শিশুটির নানার বাড়ির পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটিকে তাঁর বাবার বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নানাবাড়ি থেকে নিয়ে যায় সোহাগ ও তাঁর ফুফু। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় ইলিয়াস উদ্দিনের বাড়ির উত্তর পাশে শিশুটির নানার বাড়ি ও বাবার বাড়ির মাঝামাঝি স্থানে লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে অভিযুক্ত সোহাগকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায়, সোহাগ নেশাগ্রস্ত এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
নিহতের নানি বলেন, সোহাগ ও তাঁর ফুফু বিকেলে দিয়ে দেওয়ার কথা বলে লাবীবকে নিয়ে যান। পরে না দিলে তাকে আনতে গেলে সোহাগ জানায়, সে লাবীবকে দিয়ে এসেছে। কিছুক্ষণ পরই জানতে পারেন, তাঁর নাতির লাশ পাওয়া গেছে। শিশুটির নানি বলেন, ‘সোহাগই আমার নাতিকে হত্যা করেছে। আমি তার ফাঁসি চাই।’
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভালুকা থেকে ঘটনাস্থলে আসেন লাবীবের মা লামিয়া। ছেলের মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি খুনের বদলে খুন চাই, ফাঁসি চাই।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে গতকাল দিবাগত রাতে গফরগাঁওয়ের যশোরা ইউনিয়নের বাখুরা গ্রাম থেকে শিশুটির বাবা সোহাগ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর প্রথম স্ত্রী জাকিয়া আক্তারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।