যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় একটি চোরাই মোটরসাইকেল, বিভিন্ন জেলার ভুয়া নম্বর প্লেট, মাস্টার চাবিসহ চুরি কাজে ব্যবহৃত বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থিত রাবেয়া সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘শফি মোটরস ওয়ার্কসপ’ নামের একটি গ্যারেজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের ইব্রাহিম মোড়লের ছেলে রাকিব হোসেন (১৯)এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ছোট ভেটখালী গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর ছেলে মনিরুজ্জামান (৩৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শার্শা থানার একটি টহল দল এসআই শেখ আল আমিনের নেতৃত্বে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দুই যুবককে একটি মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ খুলতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ তাদের হেফাজত থেকে নীল রঙের ইয়ামাহা এফজেডএস ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল (রেজি: খুলনা মেট্রো-ল-১৩-৭২৯৫), একটি ডিজিটাল নম্বর প্লেট, একটি টিনের নম্বর প্লেট, ১১টি কম্পিউটার প্রিন্ট করা লেমিনেটেড নম্বর প্লেট, দুটি মোটরসাইকেলের চাবি এবং লোহার রড দিয়ে তৈরি ‘টি’ আকৃতির একটি মাস্টার চাবি উদ্ধার করে। জব্দ মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির মালিক খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার এনায়েতুল ইসলামকে খবর দেওয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে তার মোটরসাইকেল শনাক্ত করেন। তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালর সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মনিরুজ্জামান স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নাভারণ রেলবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে এনে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির মূলহোতা হিসেবে নাভারণ রেলবাজারের সান্দার আলীর ছেলে শফিয়ার রহমান (৪৩) এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে খলিল গাজী (৪৬)-এর নাম উঠে এসেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮০/৪১১/৪১৩/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর আজ বৃহস্পতিবার বিকালে আটককৃতদের যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, আটক দুই আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে। শার্শা থানা এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই যন্ত্রাংশ বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।