রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
শিল্প খাতের সাইবার সুরক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল ক্যাসপারস্কি ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: - বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী রমজানের পরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন : ইসি মাছউদ নতুন অপো এ৬এস প্রো’র সাথে ঈদ মেগা অফার ঘোষণা করলো অপো পদ্মা ব্যাংকের ১৩৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক বনানী শাখা স্থানান্তর খণ্ডিত ৭ টুকরা মরদেহের রহস্য উন্মোচন: - অনৈতিক প্রস্তাব ও কথা কাটাকাটির জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে ৮৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী
সারাদেশ

খণ্ডিত ৭ টুকরা মরদেহের রহস্য উন্মোচন:

অনৈতিক প্রস্তাব ও কথা কাটাকাটির জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা

অনৈতিক প্রস্তাব ও কথা কাটাকাটির জেরে রাগ আর ক্ষোভ থেকে রাজধানীতে চাপাতি দিয়ে হত্যা করা হয় নরসিংদীর শিবপুরের ওবায়দুল্লাহকে। মরদেহ গুম করতে তার দেহ ৭ টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয় শাহীন নামে তারই রুমমেট।  
রোববার (১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।
 
তিনি বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন।
 
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু শাহীন জানায়, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসীম উদ্‌দীন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।
 
রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড় ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন অংশে খণ্ড করে পলিথিনে মুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
 
হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলা হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরইমধ্যে পাওয়া গেছে, আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।
 
শাহীন হত্যা করেছে—এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে নিজেও ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহ গুম করতে নিজের সাইকেলে করে টুকরাগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন শাহীন। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া
 
শুধু ঝগড়া-বিবাদের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে, মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। এই বিষয়টি সে নিতে পারতো না। অনেক সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত। তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিত।
 
হত্যাকাণ্ডের পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
 
হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও শাহীনের বাইসাইকেল জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন হারুন-অর-রশীদ।
 
প্রসঙ্গগত, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মোড়ানো মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো আরও দুটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।
 
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্‌দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।

এই সম্পর্কিত আরো

শিল্প খাতের সাইবার সুরক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল ক্যাসপারস্কি

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

রমজানের পরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন : ইসি মাছউদ

নতুন অপো এ৬এস প্রো’র সাথে ঈদ মেগা অফার ঘোষণা করলো অপো

পদ্মা ব্যাংকের ১৩৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বনানী শাখা স্থানান্তর

খণ্ডিত ৭ টুকরা মরদেহের রহস্য উন্মোচন: অনৈতিক প্রস্তাব ও কথা কাটাকাটির জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা

আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে ৮৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি

ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী