ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সবধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে।
এ সময় মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণের জন্য জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী অভয়াশ্রম এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে নদীতে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবে। আর বেকার হয়ে পড়া এসব জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে দেওয়া হচ্ছে ভিজিএফের চাল। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১২০ কেজি চাল পাবেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আইন অমান্য করে জাটকা ধরা হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে নৌ পুলিশ সক্রিয় থাকবে। নৌ সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরও তৎপর হতে হবে। তিনি জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।