পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাসির ফকির (৬৫) নামে এক তরমুজ চাষীর ওপর একদিনে তিন দফা হামলা এবং ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত নাসির ফকির রাঙ্গাবালী উপজেলার বড় বাইসদিয়া ইউনিয়নের চরনজির গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। জানা গেছে, প্রথম দফা হামলা হয় বেলা ১১টার দিকে তার নিজ বাড়ি চরনজির এলাকায়। দ্বিতীয় দফা হামলা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী খেয়াঘাটে এবং তৃতীয় দফা হামলা বিকেল ৫টার দিকে উলানিয়ার বড় বাঁধ এলাকায় সংঘটিত হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
আহতের স্ত্রী কোহিনুর বেগমের অভিযোগ, সকালে নাসির ফকির তার বসতবাড়ির পাশের তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান প্রতিবেশী কালাম হাওলাদারের গরু ক্ষেতের তরমুজ গাছ নষ্ট করছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে কালাম হাওলাদার ও মিলন প্যাদা তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ঘর থেকে রড এনে তার মাথায় আঘাত করে কালাম হাওলাদার।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসার জন্য গলাচিপা যাওয়ার পথে বদনাতলী খেয়াঘাট এলাকায় কালাম হাওলাদারের ছেলে ইসরাফিলসহ ৮-১০ জনের একটি দল তাকে পুনরায় মারধর করে।
একইদিন বিকেল ৫টার দিকে উলানিয়ার বড় বাঁধ এলাকায় আবারও ইসরাফিলসহ ওই দল হামলা চালায় এবং সঙ্গে থাকা তরমুজ বিক্রির ৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় নাসির ফকির মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও জখম হয়। শেষ দফা হামলার পর তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। নিরাপত্তা শঙ্কা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত নাসির ফকির বলেন, কালাম হাওলাদার ও মিলন কেন আমাকে মারলো বুঝতে পারছি না। আমার তরমুজ বিক্রির শেষ সম্বল ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। তারা আমাকে পেলে মেরে ফেলবে বলে ভয় পাচ্ছি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, তিনবারের হামলার সময় আমি পাশে ছিলাম। গরুতে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বলায় অকারণে আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছে। পরে আমাদের সঙ্গে থাকা তরমুজ বিক্রির ৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অতীতেও কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় নাসির ফকিরকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।