রাজধানীর হাজারীবাগ রায়েরবাজার এলাকায় শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে হাজারীবাগ রায়েরবাজারে বাসার সামনে ঘটনাটি ঘটে।
মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাত সোয়া ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন জানান, তাদের বাসা রাযেরবাজার হায়দার হোটেলের গলিতে। বিন্তি রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই সন্তানের মধ্যে বিন্তি ছিল বড়।
তিনি আরও জানান, রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলের সাথে বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাসার নিচে হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি কে বা করা আমার মেয়ে বিন্তিকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। দ্রুত তাকে সেখান থেকে শিকদার মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে মারা যায়।
হাসপাতালে বিন্তির মা নাদিয়া বেগম বলেন, রাত ৮টার দিকে বিন্তি আর তার ভাই নাবিলের সঙ্গে নিচে নামে। কাঁচা তরকারি কিনে তার বোন বাসার নিচে দিয়ে মসজিদে চলে যায়। হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি আমার মেয়েকে ঘিরে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে স্থানীয় অনেকেই বলে বিন্তি বলছিল, সিয়াম নামে এক যুবক তাকে কুপিয়েছে।
তার মা আরও বলেন, তিন-চার বছর আগে থেকে সিয়াম মোবাইলে ডিস্টার্ব করত বিন্তিকে। একদিন আমি সিয়ামকে মোবাইলে বকাবকি করি। আজকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি সিয়ামের ফাঁসি চাই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি হাজারীবাগ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এদিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ রায়েরবাজার এলাকায় হেঁটে যাচ্ছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিন্তী ও সিয়াম নামের আরেক কিশোর। কিছু সময় পর কিছুটা নির্জন জায়গায় বিন্তীকে এলোপাতারি কুপিয়ে পালিয়ে যায় সিয়াম। পাশের ভবন থেকে সেই ঘটনা ভিডিও করেন এক বাসিন্দা।
ধারালো ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত বিন্তী বাঁচার আকুতি জানালে, চিৎকারে ছুটে আসে আশপাশের মানুষ ও তার পরিবার। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাছিকাটা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে হাজারীবাগ থানার হায়দার আলী হোটেলের পাশে বাবু কমিশনারের বাড়ির পঞ্চম তলায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকত এবং রায়েরবাজার হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।