ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন হত্যায় উত্তাল হয়ে উঠেছে নগরী। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের মুখে শাওন হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের ১০টি টিম একযোগে অভিযানে নামে। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন– বিশাল বিন, বিপুল বিন, রাজ বিন, হৃদয়, দেবরাজ বিন ও মুন্না বিন। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চর জেলখানা এলাকার বিনপাড়ায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নিহত নুরুল্লাহ শাওনের জানাজা হয়। পরে কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শনিবার রাত ৮টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারে আলটিমেটাম দেন।
এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর জয়নুল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নুরুল্লাহ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে শুক্রবার রাতে শাওনের লাশ উদ্ধারের খবরে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে টাউন হল মোড়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
শাওনের জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেফতার না হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য,গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাওন ও তাঁর বন্ধু রিফাত ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীদের ধাওয়া খেয়ে রিফাত প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন শাওন। দুদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান-সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিদের শনাক্ত করে ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।