মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: - ভোটের আগে-পরে মোটরসাইকেল ৩ দিন, অন্যান্য যান ২৪ ঘণ্টা বন্ধ লাইসেন্স পেতে চালকদের ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নির্বাচনে আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করতে পেরেছি: ইসি আনোয়ারুল শ্রীপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সিস্টেম আপগ্রেডেশন: - সাময়িক বন্ধ থাকবে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৭০ কোটি ডলার রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: তারেক রহমান শিগগিরই ওমানে খুলছে বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রমবাজার
কর্পোরেট ভয়েস

একজন স্বপ্নবাজ সফল ব‍্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর

জাকির হোসেন আজাদী : দক্ষিণ এশিয়ার অন‍্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর ) ২১ বছর পূর্ণ করলেন সায়েম সোবহান আনভীর। যিনি আকাশছোঁয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নের একজন সফল কারিগর। খুব কম ব্যক্তিই পারেন সাফল্যের পথে নিজ দেশকে এগিয়ে নিতে ও দেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিতে। স্বল্প সংখ্যক মানুষই পারেন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সাফল্যের শীর্ষে পৌছাতে। সায়েম সোবহান আনভীর সে সব মানুষদেরই একজন। যাঁরা স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ন করে চলেন নিরন্তর।

দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্বপ্নদ্রষ্টা আহমেদ আকবর সোবহান। পিতার কাছ থেকেই সম্ভাবনার দুর্গম গন্তব্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গ্রুপের নাটাই হাতে ধরেছিলেন ছেলে সায়েম সোবহান আনভীর। তারপর একে একে কেটে গেছে একুশটি বছর। সেই তরুণ-তুর্কি নিজের চিহ্ন এঁকে এসেছেন সাফল্যের মোড়ে মোড়ে। আগামীর পথে তাকিয়ে বের করে এনেছেন নতুন নতুন অমিত সম্ভাবনার আদিগন্ত।

২০০১ সালের কথা বলি। মাত্রই লন্ডনে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সাফল্যের সঙ্গে বিবিএ (ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক) সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তখনই বসুন্ধরা গ্রুপের বটবৃক্ষ আহমেদ আকবর সোবহান ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের চোখে খুঁজে পেয়েছিলেন নিজের দেখা স্বপ্ন পূরণ করার আলোকবর্তিকা। বিকল্প চিন্তা না করে তাই সেই ছোট্ট আনভীরের কাঁধে তুলে দিয়েছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বড় শিল্প গ্রুপের এমডির গুরুদায়িত্ব।

পরবর্তীতে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর প্রমাণ করেছেন বাবার দেখা ভবিষ্যৎ। পিতার আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে গেছেন। ব্যবসা আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নানামুখী খাতে সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে পদে পদে রেখে গেছেন সাফল‍্যের সারথী।

তাঁর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বসুন্ধরা গ্রুপ হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। সৃষ্টি করেছেন অভাবনীয় কর্মসংস্থান। তাঁর উৎপাদিত পণ্যগুলো এখন বাংলাদেশে মার্কেট-লিডার। অত্যন্ত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের ফলে বসুন্ধরার যে কোনো পণ্য মানুষের কাছে এখন আস্থার প্রতীক।

তিন দশকের পথচলায় বসুন্ধরা গ্রুপ দেশমাতৃকার অভূতপূর্ব উন্নয়নেও অন্যতম অংশীদার। আর, এর বিরাট অংশজুড়েই রয়েছে তরুণ-তুর্কি সায়েম সোবহান আনভীরের অসামান্য ভূমিকা।

সায়েম সোবহান আনভীরের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় বসুন্ধরা গ্রুপ উন্মোচিত করেছে সাফল্যের বহু দুয়ার। বসুন্ধরা গ্রুপকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সায়েম সোবহান আনভীরও পেরিয়েছেন অনেক সিড়ি।

কেবল ব‍্যবসার গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি সায়েম সোবহান আনভীর। গেছেন বৃত্তের বাইরে। খুঁজে ফিরেছেন দেশ ও মানুষের সত্যিকারের কল্যাণ। একইসঙ্গে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী শক্তি তাঁকে উদ্যোক্তা হিসেবে অন্য দশজনের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সেরা উদ্যোক্তাদের কাতারে উঠে এসেছেন।

অর্থনীতিতে অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছেন সফল উদ্ভাবক সায়েম সোবহান আনভীর। দেশের তরে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন ক্লান্তিহীনভাবে, নীরবে-নিভৃতে। দেশের বাণিজ্য, ম্যানুফেকাচরিং, খেলাধুলা এবং গণমাধ্যমের বিকাশে বিস্তৃত পরিসরে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অবদান রেখে যাচ্ছেন। তাঁর বহুমাত্রিক ও গতিশীল নেতৃত্ব আর অনন্য মেধায় জোরালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

বর্তমানে শিল্প গ্রুপটি অবদান রেখে চলেছে সিমেন্ট, পেপার ও পাল্প, বিভিন্ন ধরনের টিস্যু, স্টিল, এলপি গ্যাস, খাদ্য ও পানীয়, নিত্যপণ্য, শিপিং, জাহাজ নির্মাণ, ড্রেজিং, ট্রেডিং কম্পানি, বিটুমিন এবং জুয়েলারি খাতে।

তাছাড়া দেশের ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলকে চাঙ্গা করতে নিরলস ভূমিকা রাখছেন সায়েম সোবহান আনভীর। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একজন প্রকৃত দানশীল হিসেবে সায়েম সোবহান আনভীরকে হয়তো অনেকেই চেনেন না। কেননা, তিনি দান করেন নীরবে। খুব কাছ থেকে যাঁরা তাঁকে দেখেছেন, তাঁরাই বলতে পারেন সায়েম সোবহান আনভীরের উদার মানসিকতা সম্পর্কে। মানুষের সেবায় সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান সবার প্রতি উদার হয়ে হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

কেবল অর্থ দিয়েই ক্ষান্ত নন, নিজের মূল্যবান সময় এবং সৃজনশীলতা বিনিয়োগ করছেন সমাজের টেকসই পরিবর্তনে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে তিনি মানুষের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দান করেন। এ ছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপ নিজেই অনেক দাতব্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের যেকোনো সংকট সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের পাশে এসে থেকেছে।

This image has an empty alt attribute; its file name is image-87-482x300.png

দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তুলেছে বসুন্ধরা। যার অন্যতম বসুন্ধরা-আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং অ্যাডভোকেট আতামেয়া ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক, যেখানে দরিদ্র মানুষদের শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট দরিদ্র ও বয়স্ক মানুষদের চোখের চিকিৎসা দিচ্ছে ও বিনামূল্যে সার্জারি করছে প্রতিনিয়ত।

তাছাড়াও বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা ও পূনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিধবা নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বসুন্ধরা পরিচালনা করছে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা।

তিনি করপোরেট, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও সমাজ সেবায় অবদান রাখায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিআইপি মর্যাদা ভোগ করছেন। ওই বছর থেকেই তাঁর ডাইনামিক নেতৃত্বে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ এনবিআরের সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মিডিয়া গ্রুপের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

গত এপ্রিলে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন সায়েম সোবহান আনভীর। গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড অ্যান্ড লিডার্স ২০২১-২০২২ এশিয়া-আমেরিকা-আফ্রিকা অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎকর্ষ সাধন, মানোন্নয়ন, ভোক্তা ও শিল্প পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে দেয়া হয় এ সম্মাননা।

পূর্বে দেশে বিদেশে আরও নানা পুরস্কারে ভূষিত হন সায়েম সোবহান আনভীর। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা এমডিকে ‘সেন্ট মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। বাংলাদেশে মিডিয়া জগতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ২০১৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে গুরুঞত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) স্বীকৃতি দেয়।

এছাড়াও বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সুসংহত করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের স্বীকৃতি অর্জন করেন। দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি ক্রীড়া, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, সমাজ সেবা ও গণমাধ্যমে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারতের মর্যাদাপূর্ণ দাদা সাহেব ফালকে এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০১৭-এ ভূষিত হন তিনি।

বহুমুখী শিল্পের প্রবক্তা সায়েম সোবহান আনভীর
সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ব্যবসায়িক দক্ষতার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। নৈতিকতা এবং প্রগতিশীল ধারণা তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। শিল্পখাতের টাইটান হিসেবে তিনি দেশি-বিদেশি বহু ব্যবসায়িক ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সদস্য ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ঢাকা।

এই সম্পর্কিত আরো

১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোটের আগে-পরে মোটরসাইকেল ৩ দিন, অন্যান্য যান ২৪ ঘণ্টা বন্ধ

লাইসেন্স পেতে চালকদের ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

নির্বাচনে আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করতে পেরেছি: ইসি আনোয়ারুল

শ্রীপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

সিস্টেম আপগ্রেডেশন: সাময়িক বন্ধ থাকবে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা

২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৭০ কোটি ডলার

রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: তারেক রহমান

শিগগিরই ওমানে খুলছে বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রমবাজার