শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
জরুরি প্রয়োজনে এক কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন ওয়ালটন প্লাজার ক্রেতারা বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন মাহমুদুল হক বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে নতুন অর্থায়ন মডেল গড়ে তুলছে আইএফআইসি ব্যাংক ও সুইসকন্ট্যাক্ট পুকুর থেকে হোটেলকর্মীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার মিরপুর টেস্ট - উইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ এ মেয়েরা এগিয়ে এইচএসসিতে ১ বা ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ১ মাসের মধ্যে পরীক্ষার সুযোগ
advertisement
কর্পোরেট

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে নতুন অর্থায়ন মডেল গড়ে তুলছে আইএফআইসি ব্যাংক ও সুইসকন্ট্যাক্ট

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা বাড়াতে ভ্যালু চেইনভিত্তিক নতুন অর্থায়ন মডেল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালন, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক স্বাধীন উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্ট্যাক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্থাটি টেকসই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে কাজ করে। বাংলাদেশের সবজি খাতে স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মানদণ্ড পরিপালন জোরদার এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত অর্থায়ন মডেলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পণ্যের উৎস ও সরবরাহপথ শনাক্তকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নকে একটি সমন্বিত ভ্যালু চেইন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। প্রচলিত ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতির পাশাপাশি ঋণগ্রহীতার উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং রপ্তানির প্রস্তুতিকেও অর্থায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হয়, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি কৃষক। অথচ দেশের মোট সবজি উৎপাদনের ০.৩ শতাংশেরও কম, অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার টন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়।

উন্নত কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণের সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যবিধি ও বালাই ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের অভাব, পরীক্ষাগার সুবিধার স্বল্পতা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণে দুর্বলতা উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয়, পরিবহন ব্যয় এবং অপর্যাপ্ত প্যাকেজিংও রপ্তানি সম্প্রসারণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রেক্ষাপটে রপ্তানিমুখী কৃষি খাতের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এগ্রি-এসএমই) জন্য বিশেষায়িত ঋণ, রপ্তানি ঋণসুবিধা, ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে আইএফআইসি ব্যাংক ও সুইসকন্ট্যাক্ট। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে যশোর ও নরসিংদীর কৃষি ক্লাস্টারগুলোতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব এলাকার কৃষকদের উন্নত কৃষি চর্চা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, রপ্তানিকারকদের এসপিএস মানদণ্ড পরিপালন, হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্টস (হাসপ), সনদ অর্জন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মো. মেহমুদ হোসেন বলেন, “এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানো নয়; বরং উন্নত মানদণ্ড, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত আর্থিক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্রেতাদের সংযুক্ত করে অর্থায়ন-সমর্থিত একটি রপ্তানি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।”

২০২৭ সালে নির্ধারিত প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে সনদ অর্জন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, প্যাকেজিং, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বাণিজ্য মিশন আয়োজনে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং রপ্তানিকারকদের আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কর্মসূচির আওতায় ৫০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং কৃষককে আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া, ১৫ জন রপ্তানিকারককে সনদ অর্জনের প্রস্তুতিতে সহায়তা করা, আইএফআইসি ব্যাংকে ৫০০টি নতুন হিসাব খোলা এবং অন্তত ১০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে অর্থায়ন পণ্যের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ