মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
রাজনীতি

মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ক্ষমা চেয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের অন্তিম বিদায়ের এই মুহূর্তে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজা নামাজ শুরুর আগে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব ইনশাল্লাহ।’

Imported from WordPress: image-44-1024x683.png

তিনি আরও বলেন, ‘উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় তাঁর কোনো ব্যবহারে, কোনো কথায়, যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।’

বক্তব্য বেগম জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘তাঁর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।’

বেলা তিনটা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা শেষ হয়।

জানাজায় খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাসহ তিন বাহিনীর প্রধানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের প্রতিনিধি, বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। এছাড়া পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকও জানাজায় অংশ নেন।

জানাজাকে ঘিরে জাতীয় সংসদের মূল মাঠ ও আশপাশের পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। একদিকে বিজয় সরণী ও আগারগাঁও, অন্যদিকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করার কথা রয়েছে।

এর আগে বুধবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানে নেওয়া হয়। শুরুতে ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা থাকলেও পরে মরদেহ লাল-সবুজ পতাকা মোড়ানো গাড়িতে করে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত পরিবারের সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে গুলশান-২ থেকে মরদেহবাহী গাড়িবহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর পৌনে ১২টার কিছু পরে গাড়িবহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। দেশ-বিদেশে তথা দক্ষিণ এশিয়ায় নারী প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয় এ নেত্রী আজ দেশবাসী, দলীয় নেতাকর্মী, ভক্ত ও অনুসারীদের কাঁদিয়ে পরলোকে পাড়ি জমান।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে ৩১ ডিসেম্বর সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো