নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ১ নং (ক) জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের একটি ট্রেড লাইসেন্সে প্রয়াত চেয়ারম্যান হাজী মুহাম্মদ নুরুল হকের স্বাক্ষর দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই চেয়ারম্যান ৭ মাস আগে ২০২৪ সালের ১২ জুলাই স্ট্রোকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ ওই ট্রেড লাইসেন্সে তার স্বাক্ষরসহ ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, হাজী মুহাম্মদ নুরুল হক ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জুলধা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণের পর তিনি ২ বছর ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেন। আকস্মিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবনের ইতি ঘটে। তবে মৃত্যুর পরও তার স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা ওই ট্রেড লাইসেন্সের ক্রমিক নম্বর ৭৫৫ এবং লাইসেন্স নম্বর ৭৭/২০২৪-২০২৫। এতে মালিক হিসেবে খতিজা বেগমের নাম, ঠিকানা, এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসাবে মো. রায়হান ডেইরি ফার্মের নাম উল্লেখ রয়েছে। নবায়ন ফি ৫৭৫ টাকা পরিশোধ দেখানো হলেও এটি যে মৃত চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে নবায়ন করা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট।
পরে ইউপি সচিব বর্তমানে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম একই ক্রমিক নম্বরের আরেকটি ট্রেড লাইসেন্স সরবরাহ করেন। সেটিতে দেখা যায়, একই ব্যক্তির নামে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারিতে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে, তবে এতে প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নেই। বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে, কারণ দুই সনদেই জালিয়াতির আভাস স্পষ্ট।
জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়ে জানান, ৭৫৫ সিরিয়ালের ট্রেড লাইসেন্স বান্ডিলটি পরিষদে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না করায় তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি যদিও দাবি করেন, জুলধা ইউনিয়ন পরিষদে নতুন যোগদান করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ‘এখন আমরা অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করছি। পুরোনো ম্যানুয়াল লাইসেন্স কেউ হয়তো জালিয়াতি করে ব্যবহার করছে।’
এ বিষয়ে জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরার কাছে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য প্রদান করেননি। তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নোমান হোসেন বলেছেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জালিয়াতি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চক্রটি যে লাভবান হচ্ছে, তা শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; বরং প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি মানুষের আস্থাও নষ্ট হচ্ছে। যেহেতু প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কর্ণফুলীর এসিল্যাণ্ড রয়া ত্রিপুরা।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপকৌশল রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে সরকারের রাজস্ব বাড়ে।