জুলাই ১৬, ২০২৪ - ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
Homeকর্পোরেট-অর্থ ও বাণিজ্যঅর্থ-বাণিজ্যপানিতে ভাসছে মরিচের সঙ্গে কৃষকের স্বপ্ন, হতাশায় চাষীরা

পানিতে ভাসছে মরিচের সঙ্গে কৃষকের স্বপ্ন, হতাশায় চাষীরা

spot_img

সাইফুল ইসলাম তানভীর, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের নিচু অঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের মাঠ। এতে করে বিপাকে পরেছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। হঠাৎ করে মরিচ ক্ষেতে পানি আসায় হতাশায় কৃষকেরা।

জানা যায়, এ উপজেলার এ সময় অন্যতম প্রধান ফসল কাঁচা মরিচ। ইতিপূর্বে প্রচন্ড খরা ও ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মরিচ চাষিরা। এখন বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় লাভের আশা উঁকি দিতেই তাতে গুরে বালি দিয়েছে বন্যা ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণের পানি। এতে মরিচ ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায় গাছগুলো টলে পড়ে মরে যাচ্ছে। ঝড়ে পরছে মরিচের ফুল। উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় ভূট্টা, চিনা বাদাম, তিল ও আউশ ধান নিয়েও বিপাকে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিন্দু মরিচের আবাদ হয়েছে ১৭৫০ হেক্টর আর কৃষিবিদ মরিচ ১১০৬ হেক্টর ও কারেন মরিচ ৬৫ হেক্টর।

আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন জানান, হঠাৎ করেই চরের নিম্নাঞ্চলে পানি চলে আসায় বাদাম, ভূট্টা, তিল, আউশ ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সময় মতো ফসল তুলতে পারছি না।

এ দিকে ক্ষেতে পানি আসায় মরিচের ফলন বিনষ্ট হওয়ায় কাঁচা মরিচের দামও আকাশচুম্বী। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদের কাঁচামরিচ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান এ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারী বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে নাভিশ্বাস।

বাল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম খেরুপাড়া গ্রামের সুমন জানান, আমি ৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করছি। গাছ ভাল হলেও আশানুরূপ ফলন নেই। এ পর্যন্ত দুই মাসে মাত্র চার মন মরিচ বিক্রি করেছি। এর মধ্যেই ক্ষেতে পানি চলে আসে। মরিচের পেছনে আমার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ২/১ দিন পর পর ৫ থেকে ৭ কেজি বিক্রি করেছি। এতে লাভ তো দূরের কথা চালানই উঠে নাই।

উপজেলার ঝিটকা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন জানান, এ বাজার থেকে ১০০/১৫০ টন মরিচ রপ্তানি হতো। এ বছর আবাদ ভাল হলেও খরার কারণে ফলন নেই বললেই চলে। এ মৌসুমে ৭/৮ টনের বেশি মরিচ আসে নাই। আর এখন তো বন্যার পানি এসে গেছে। আজকের বাজারে মরিচ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে।

খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী ওয়াসিম জানান, আজ আমরা মরিচ বিক্রি করছি ২৮০ টাকা করে। আমাদের যেভাবে কিনতে হয়, সেভাবেই বিক্রি করতে হয়। তবে পানি আসায় মরিচের আমদানি খুবই কম। বাইরে থেকে মরিচ আমদানি না হলে দাম আরও বাড়বে।

অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ