সাল ২০১৮, ২০২২ এরপর ২০২৬। পরপর তিনবার বিশ্ব ফুটবলে ব্যর্থ ইতালি। আরও একবার ফুটবল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না আজ্জুরিরা। মঙ্গলবার (৩১ এপ্রিল) প্লে-অফে বসনিয়া ও হারজেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।
খেলার শুরুটা অবশ্য ভালই করেছিল ইতালি। ১৫ মিনিটের মাথায় গোল করে তাদের এগিয়ে দেন মইস কিন। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ছবিটা বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই ১০ জন মিলে খেলতে হয় ইতালিকে। ফলে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে তারা। ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হয়ে সমতা ফেরান হ্যারিস তাবাকোভিচ।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও তার পর অতিরিক্ত সময়েও খেলার ফয়সালা হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ইতালির পিয়ো এসপাসিতো বারের উপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন। বারে মারেন ব্রায়ান ক্রিসটান্টে। তার ফল ভোগে ইটালি। ১-৪ ব্যবধানে টাইব্রেকারে হেরে ম্যাচ হারে তারা।
এই হার মেনে নিতে পারেননি ইতালির সমর্থকেরা। মিলানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শুরু হয় বিক্ষোভ। খেলা দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে পানশালায় ভিড় জমিয়েছিলেন সমর্থকেরা। দল বিদায় নেওয়ার পর অনেক জায়গায় ভাঙচুর হয়। পরিস্থিতি সামলাতে হয় প্রশাসনকে। প্রকাশ্যে ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের উপর ক্ষোভ উগরে দেন সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ইতালির ফুটবলের সংস্কৃতিই ভেঙে পড়েছে। খোলনলচে বদলে ফেলতে হবে। নইলে ফুটবলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে ইতালি।
ইতালিই প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন যারা পর পর তিন বার ফুটবল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না। ২০১৮ সালে সুইডেনের কাছে প্লে-অফে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। ২০২২ সালে তারা হেরেছিল নর্থ ম্যাসিডনিয়ার কাছে। এবার তাদের স্বপ্নভঙ্গ করল বসনিয়া ও হারজেগোভিনা।
ফিফা ক্রমতালিকায় ৬৬ নম্বরে থাকা দেশের কাছে হেরে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে পারছেন না ইতালির কোচ গেনারো গাট্টুসো। খেলা শেষে তিনি বলেন, “আমি এখন আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না। খুব ধাক্কা লেগেছে। এই দলটা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। ওরা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য। কিন্তু একটা খারাপ দিন আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে দিল।”
দল বিশ্বকাপের যোগ্যতা না পেলেও হয়তো গাট্টুসোর চাকরি যাবে না। তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইতালির ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। তিনি বলেন, “গাট্টুসো দুর্দান্ত কোচ। ওর কোনও দোষ নেই। পদত্যাগ না করে আগামী দিনেও ইতালির ফুটবল দলের দায়িত্ব সামলাতে বলেছি ওকে।”