টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের স্বপ্ন ভঙ্গ করে প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার ও রেকর্ড তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। এর মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ক্রিকেটের মারকাটারি সংস্করণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের জমজমাট মহারণ।
রোববার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে কিউইদের ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। শিরোপার ফয়সালা শেষে এখন হিসাবের খাতায় টুর্নামেন্টের সেরাদের নাম। দর্শকদের প্রশ্ন টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন কারা?
ভারত শিরোপা জিতলেও রান সংগ্রহের তালিকায় সবার ওপরে পাকিস্তানি তারকার নাম। সুপার এইট রাউন্ড থেকে বাদ পড়া পাকিস্তানের ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৭ ম্যাচের ৬ ইনিংসে ব্যাট করে তার রান ৩৮৩। আসরে একটি সেঞ্চুরিও আছে শাহিবজাদার। পাকিস্তানি এই ওপেনার ব্যাট করেছেন ১৬০.২৫ স্ট্রাইকরেটে, গড় ছিল ৭৬.৬০।
তালিকার পরের চারটি নাম অবশ্য ফাইনালিস্ট দুই দলের। ৯ ম্যাচের ৮ ইনিংসে ব্যাট করে ৩২৬ রান নিয়ে দুই নম্বরে আছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার টিম শেইফার্ট। ১৬৬.৩২ স্ট্রাইকরেট আর ৪৬.৫৭ গড়ে ব্যাট করেছেন তিনি।
৫ ম্যাচে ৩২১ রান নিয়ে তিন নম্বরে আছেন ভারতীয় ওপেনার সান্জু স্যামসন। চার নম্বরে আছেন আরেক ভারতীয় ইশান কিষাণ। ৯ ম্যাচে তার রান ৩১৭। পাঁচ নম্বরে আছেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন। ৯ ম্যাচের ৮ ইনিংসে তার রান ২৯৮। আছে একটি সেঞ্চুরিও।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকার শুরুর দুই নামই ভারতীয় ক্রিকেটারের। আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৪টি করে উইকেট জাসপ্রিত বুমরাহ আর বরুণ চক্রবর্তীর। তবে গড় আর ইকোনমিতে এগিয়ে আছেন বুমরাহ। ৮ ম্যাচ খেলা এই ভারতীয় পেসার ওভার প্রতি ৬.২১ রান দিয়েছেন, গড় ছিল ১২.৪২। অন্যদিকে, ৯ ম্যাচ খেলা বরুণ ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৯.২৫ করে, গড় ২০.৫০।
তালিকার তিন নম্বর নামটি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার ভ্যান স্ক্যালউইকের। মাত্র ৪ ম্যাচেই তিনি শিকার করেছিলেন ১৩ উইকেট। ওভার প্রতি তিনি খরচ করেছিলেন ৬.৮০ রান, গড় ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সেরা ৭.৭৬।
জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারবানি আছেন চার নম্বরে। ৬ ম্যাচে তার শিকারও ১৩টি উইকেট। ৮ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছেন ইংল্যান্ডের স্পিনার আদিল রশিদ।
এদিকে আইসিসি ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য মোট পুরস্কার অর্থ রাখা হয়েছে ১১.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা)। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা) নিশ্চিতভাবে পেয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা)। অন্যদিকে রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের প্রাপ্তি ১.১৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা)।
এ ছাড়া সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পেয়েছে ৬৭৫ হাজার ডলার করে (প্রায় ৮ কোটি ৩ লাখ টাকা)। টুর্নামেন্টে পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছে ২৭০ হাজার ডলার করে (প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা), নবম থেকে দ্বাদশ স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছে ১৩৫ হাজার ডলার করে (প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা)।
আর ১৩তম থেকে ২০তম স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ডলার করে (প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা)।
এদিকে টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো অতিরিক্ত ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) করে পুরস্কার পেয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট পুরস্কার অর্থ ধরা হয়েছে ১১.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা টুর্নামেন্টটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।