স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশতিয়াক সাদেক। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে ইশতিয়াক বলেছেন, ‘আমি আসলে পদত্যাগ করেছি, কারণ আমার মনে হচ্ছে আমি গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মতো এত বড় দায়িত্বে থেকেও ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না। এটার জন্য আমি নিজের কাছে নিজেই অনুতপ্ত।’
গত ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচিত হন ইশতিয়াক সাদেক। তাকে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেই দায়িত্বসহ বিসিবির পরিচালক পদ থেকেই সরে দাঁড়ালেন ইশতিয়াক।
সরে দাঁড়ানোর পর তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমার জায়গায় যে আসবে সে যথেষ্ট সময় দিয়ে এই বিভাগকে এগিয়ে নেবে।’
তা বোর্ডের সঙ্গে কোনো সমস্যা বা অন্য কোনো পরিচালকের সঙ্গে দ্বন্দ্বেই সরে দাঁড়ালেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ইশতিয়াক বলেছেন, ‘অবশ্যই না, বোর্ডের কারোর সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই, সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। আমি নিজের জায়গা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।’
বিসিবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সর্বশেষ বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইশতিয়াক। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, ইশতিয়াকের পর সাম্প্রতিক নানান ঘটনায় আরও দুয়েকজন পরিচালক পদত্যাগ করতে পারেন।
অবশ্য বেশ কয়েকদিন ধরেই দেশের ক্রিকেট উত্তপ্ত। সেটা বিশ্বকাপ ইস্যুতে। সেই ইস্যুতে তামিম ইকবালের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কম বিতর্কের মুখে পড়েননি বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল হোসেন। তাকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে বিপিএল বয়কটও করেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। শেষ পর্যন্ত ওই পরিচালক অর্থ কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আরেক বোর্ড পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত বিপিএল ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। তিনিও একদিন আগে অডিট কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অবশ্য নাজমুল কিংবা শামীম- কেউ-ই বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।
গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে মোখলেসুর রহমান শামীম লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি আমার দায়বদ্ধতার প্রকাশ।’
অব্যাহতির সিদ্ধান্ত কষ্টের হলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বিবেচনায় এমনটা করেছেন জানিয়ে শামীম বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টের হলেও বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম সবার আগে।’ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও জানান, ‘তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’