শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
খেলাধূলা

জোকোভিচকে হারিয়ে উইম্বলডনের রাজা আলকারাজ

স্পোর্টস ডেস্ক : উইম্বলডনের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন বিশ্বের এক নম্বর কার্লোস আলকারাজ এবং দু’নম্বর নোভাক জোকোভিচ। অল ইংল্যান্ড লন টেনিস অ্যান্ড ক্রোসেট ক্লাবে জোকোভিচের লক্ষ্য ছিল ক্যারিয়ারের অষ্টম উইম্বলডন খেতাব জিতে রজার ফেডেরারকে স্পর্শ করার।

অন্যদিকে স্পেনের বছর কুড়ির আলকারাজের মিশন ছিল গতবছর যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের পর জীবনের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার। চলতি উইম্বলডনে পুরুষ বিভাগের দুই ফাইনালিস্টের নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই, একটা কথা বারবার বলা হচ্ছিল, এই ম্যাচ হতে চলেছে অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের লড়াই। কিংবদন্তি জকোভিচের থেকে ১৬ বছরের ছোট আলকারাজ। স্প্যানিশ যুবককেই টেনিসবিশ্ব আগামীর মহাতারকা হিসেবে দেখছে। রবিবাসরীয় মহারণে শেষ হাসি হাসলেন সেই আলকারাজই। তিনি হয়ে গেলেন ‘জায়ান্ট কিলার’! আলকারাজ জিতলেন ১-৬, ৭-৬ (৬), ৬-১, ৩-৬, ৬-৪ গেমে। ঘাসের কোর্টে কার্যত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেরে গেলেন ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আলকারাজকে ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছিল। ফাইনালে নামার আগেও তিনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন জকোভিচকে হারাবেন বলে। আর সেটাই করে দেখালেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়। আগামী সোমবার টেনিসের যে নতুন ক্রমতালিকা প্রকাশিত হবে সেখানে বিশ্বের এক নম্বর হিসেবে আলকারাজের নামটাই জ্বলজ্বল করবে। কারণ উইম্বলডন ফাইনালের আগেই জানা গিয়েছিল যে, চ্যাম্পিয়ন যেই হবেন, সেই চলে যাবেন মগডালে। উইম্বলডনের ফাইনালে জিতে একেই থাকলেন এক নম্বর। ফাইনালের মতো ফাইনাল দেখল সেন্টার কোর্ট। রুদ্ধশ্বাস, হাড্ডাহাড্ডি, নেক-টু-নেক শব্দগুলো জুড়ে থাকল ৪ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের পাঁচ সেটের সুপার সানডে সাসপেন্সে। চলতি বছর দু’টি গ্র্যান্ড স্ল্যামই জিতেছিলেন জোকোভিচ। কিন্তু তিন নম্বরটা জেতা হল না তাঁর।

Imported from WordPress: image-48.png

আলকারাজ কোর্টে নামার আগে থেকেই ছিলেন চূড়ান্ত প্রত্যয়ী। ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ডেভিড হয়েও বলে দিয়েছিলেন যে, গোলিয়াথকে তিনি হারাবেন, আর সেটাই করে দেখালেন। প্রথম সেটে আলকারাজকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন জোকোভিচ। অনেকেই মনে করেছিলেন’মর্নিং শোজ দ্য় ডে’ প্রবাদই সত্যি হবে। ভিভিআইপি-তে ঠাসা রবিবাসরীয় ফাইনাল হয়তো নিয়ে যাবেন জোকোভিচই। কিন্তু ১-৬ হারের ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় সেটেই অনবদ্য কামব্যাক করেন আলকারাজ। তাঁর খেলা দেখে থ হয়ে গিয়েছিল সেন্টার কোর্ট। ৭-৬ টাইব্রেকারে সেট নিজের পকেটে পুরে ফেলেন। তৃতীয় সেটে আরও জাঁকিয়ে বসেন আলকারাজ। বুঝিয়ে দেন জোকোভিচের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে তিনি নেমেছেন কোর্টে। জকোভিচকে ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফের চমকে দেন তিনি। তবে জোকোভিচও যে সর্বকালের সেরাদেরই একজন। এই খেলার কিংবদন্তি তিনি। ঠান্ডা মাথায় বহু ফাইনাল বার করার নীল নকশা মুহর্তে ছকে ফেলার ক্ষমতা আছে তাঁর। আর সেই পথে হেঁটেই ৬-৩ ব্যবধানে চতুর্থ সেট জিতে নেন জকোভিচ। তবে আলকারাজ যেন আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েই নেমেছিলেন যে, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’! ফের অসাধারণ টেনিস খেলেন তিনি। ৬-৪-এ পাঁচ নম্বর সেট জিতে, জকোভিচের মুখের গ্রাস কেড়ে নেন। প্রথমবারের মতো উইম্বলডন জিতে বিজয়ীর হাসি হাসলেন আলকারাজ।

Imported from WordPress: image-49.png

এই সম্পর্কিত আরো