বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ ২৯৯ আসনে পৌঁছেছে ব্যালট পেপার: - নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি সচিব আচরণবিধি লঙ্ঘন: সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতাকে জরিমানা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৫২তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ইউসিবিতে ডিএমডি ও হেড অব স্ট্রাকচার্ড করপোরেট হিসেবে যোগ দিলেন এম. লতিফ হাসান সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : - বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ বগুড়া ও রংপুরে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে আইপিডিসি জয়ীর উদ্যোগ
নির্বাচিত কলাম

ভোটের মাঠে রাজনীতি, শেয়ারবাজারে আশার আলো

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতি যেমন উত্তপ্ত, তেমনি পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন পর কিছুটা নড়াচড়া লক্ষ করা যাচ্ছে। সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেনের ভলিউম বেড়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— বাজারের মনস্তত্ত্বে একধরনের অপেক্ষমান আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এই আশাবাদের বড় কারণ শুধু নির্বাচন নয়; বরং নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজার নিয়ে রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও প্রতিশ্রুতির উপস্থিতি।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বহু বছর ধরে একটি মৌলিক অভিযোগ ছিল— রাজনৈতিক অগ্রাধিকার তালিকায় বাজারের স্থান নেই। কিন্তু এবারের নির্বাচন ভিন্ন একটি বার্তা দিচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী— দুটি বড় রাজনৈতিক দলই তাদের ইশতেহারে অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ ও মূলধন বাজার সংস্কারের কথা বলেছে। এই রাজনৈতিক স্বীকৃতিই বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি

বিএনপি তাদের ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের প্রধান অভিযোগ ছিল— নীতি-অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রকের দুর্বলতা। ইশতেহারে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানে, রাজনৈতিকভাবে সমস্যাগুলোকে স্বীকার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে, যেখানে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিস্তার, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর্পোরেট সেক্টর ও আর্থিক খাতের উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও জামায়াত মূল ইশতেহারে সরাসরি শেয়ারবাজারকে সংক্ষিপ্তভাবে কেন্দ্রীভূত করেছে, তার অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি তাদের ইশতেহারের একটি উপজীব্য কাঠামো হিসেবে উপস্থিত আছে। এই দুই ইশতেহার একত্রে একটি বার্তা দেয়— আগামী অর্থনৈতিক নীতিতে পুঁজিবাজার আর উপেক্ষিত থাকছে না।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স এসোসিয়েশন এই রাজনৈতিক দলের ইশতেহারগুলোর মধ্যে পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতিগুলোকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিতে শুরু করেছে।

বর্তমান বাজারের আচরণ

নির্বাচনের আগে বাজারে হঠাৎ উত্থান মানেই যে মৌলিক পরিবর্তন, তা নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সূচক ও ভলিউমের বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে মনস্তাত্ত্বিক প্রত্যাশার প্রতিফলন। বহু বিনিয়োগকারী ‘ওয়েট-অ্যান্ড-সি’ অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছেন। এটা মনে রাখা জরুরি— বাংলাদেশের বাজার বহু বছর ধরে আস্থার ঘাটতিতে ভুগছে। তাই সামান্য ইতিবাচক রাজনৈতিক সংকেতও এখানে বড় প্রভাব ফেলে। নির্বাচনী ইশতেহারে বাজার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সেই সংকেত হিসেবেই কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: ভোট মানেই কি অস্থিরতা?

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে— ভোট মানেই বাজারে আতঙ্ক নয়। বরং বিষয়টি নির্ভর করে নির্বাচনের চরিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মানের ওপর। ভারতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে বাজারে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা থাকলেও, অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব প্রতিশ্রুতির কারণে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে বাজার প্রথমে সতর্ক থাকে, কিন্তু যখন অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়, তখন বাজার স্থিতিশীল হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী হয়। এদিকে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো— ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম বা ফিলিপাইন— এখানেও দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো যদি পুঁজিবাজারকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে নির্বাচন বাজারের জন্য ঝুঁকি নয় বরং সুযোগ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নির্বাচন নয়, বরং নির্বাচনের পর নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা, বাজার সংস্কার এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার দিকে তাকিয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আশা ও সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশের বাজারের সামনে এখন তিনটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রথমত, রাজনৈতিক স্বীকৃতি। ইশতেহারে পুঁজিবাজারের উপস্থিতি মানে, ভবিষ্যতে নীতি আলোচনায় বাজারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন। দীর্ঘ হতাশার পর এই আশাবাদই বাজারকে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল করতে পারে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নীতিগত ধারাবাহিকতা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর।

তবে সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। বাংলাদেশে অতীতে বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এই আশার আলো এখনো শর্তসাপেক্ষ। যদি নির্বাচনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্কার, নীতি ধারাবাহিকতা এবং সুশাসনের প্রশ্নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তাহলে এই ইতিবাচক মনোভাব দ্রুত মিলিয়ে যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সত্যটি হলো— বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আজ ভোটের ফলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভোট-পরবর্তী সিদ্ধান্তকে। রাজনৈতিক ইশতেহারে বাজারের স্বীকৃতি আশার আলো জ্বালিয়েছে, কিন্তু সেই আলো স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে ক্ষমতায় আসা রাষ্ট্রক্ষমতা বাজারকে কেবল রাজস্ব আহরণের যন্ত্র হিসেবে দেখে, নাকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। নির্বাচন আসবে ও যাবে, কিন্তু পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কাটাতে হলে প্রতিশ্রুতির ভাষা নয়, বাস্তব সংস্কারের সাহসই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস লিখবে।

লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম (পিপন), পুঁজিবাজার বিশ্লেষক।

এই সম্পর্কিত আরো

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ

২৯৯ আসনে পৌঁছেছে ব্যালট পেপার: নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি সচিব

আচরণবিধি লঙ্ঘন: সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতাকে জরিমানা

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৫২তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

ইউসিবিতে ডিএমডি ও হেড অব স্ট্রাকচার্ড করপোরেট হিসেবে যোগ দিলেন এম. লতিফ হাসান

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ

বগুড়া ও রংপুরে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে আইপিডিসি জয়ীর উদ্যোগ