বিএনপির চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ আজ বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। এই বিজয় কোনো একক দলের নয়, এ বিজয় দেশের সাধারণ জনগণের। আজ থেকে আমরা প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে বিএনপির নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, জনগণের দেশের স্বার্থে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করব। তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ অবাধ সুষ্ঠ ও নিরাপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।’
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালে দেশ রক্ষায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
দেশ পরিচালনার কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি যখন ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যই আমাদের প্রধান শক্তি। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে।’
সরকারের দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন সরকার হবে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক এবং ফ্যাসিবাদের হাতে ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করাই হবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইন সমান এবং এর প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে, তা যেন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপশক্তি যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য আমি বিজয় মিছিল করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করছি। যে কোনো মূল্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড আমরা বরদাশত করব না। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই থাকুক–কোনো অজুহাতে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না।’
এ ছাড়া রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের নির্বাচনের ইঞ্জিনিয়ারিং।
কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন— এমন আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ভিন্নমতসহ ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন মত সবার জন্য আইন সমান। কেউ আইন হাতে তুলে নিলে তা মেনে নেওয়া হবে না। ভিন্নমত ভিন্ন দলের সবার সহযোগিতা নিয়ে দেশ গড়ার কাজ করতে চাই।
একইসঙ্গে বিএনপি ও জোটভুক্ত সবাইকেও শান্ত থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।